দেশের খবর
খসড়া ভোটার তালিকার পর রাজ্যে শুরু হচ্ছে শুনানি, নোটিস যাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে শুরু হল শুনানি পর্বের প্রস্তুতি। লক্ষ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠাবে নির্বাচন কমিশন। কড়া নজরদারিতে থাকবে গোটা প্রক্রিয়া।
রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Voter List) প্রকাশের পর শনিবার থেকেই শুনানি পর্ব (Hearing Process) শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্দিষ্ট অপশন চালু না থাকায় প্রথমে সমস্যায় পড়েন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) ও ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ERO)। সেই সময় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও (CEO) মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) জানিয়েছিলেন, শুনানি প্রক্রিয়া শুরুর কাজ চলছে।
শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অবশেষে রাজ্যে শুনানি পর্বের অপশন চালু হয়ে গেছে। ফলে এবার থেকে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু হবে। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নোটিস পাঠানোর পর সংশ্লিষ্টদের অন্তত সাত দিনের সময় দেওয়া হবে শুনানির প্রস্তুতির জন্য।
শুনানি পর্বে সিসিটিভি (CCTV) বসানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও আপাতত সিসিটিভি ছাড়া শুনানি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সূত্রের খবর, প্রথম শুনানি ২৫ ডিসেম্বরের আগে হচ্ছে না।
রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন ‘নো ম্যাপিং’ জোনে (No Mapping Zone)। যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের কোনও যোগসূত্র দেখাতে পারেননি, তাঁদের প্রত্যেককেই শুনানির জন্য ডাকা হবে। পাশাপাশি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা বা বাবা-মা, দাদু-দিদা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যের নাম না থাকা ভোটারদের (Progeny Voters) সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০ জন।
এছাড়াও যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, এমন ১৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৫০ জন ভোটারের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কমিশনের মতে, বর্তমানে যাঁদের বয়স ৪৫ বছর, তাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা। কারণ, ২৩ বছর আগে শেষবার রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR – Special Intensive Revision) হয়েছিল।
বাবার নাম সংক্রান্ত অসঙ্গতি রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যা ৮৫ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৬। আবার বাবার বয়স নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে ১৯ লক্ষেরও বেশি ভোটারের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে ১০ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৮১ জন ভোটারের বয়সের সঙ্গে বাবার বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছর। আবার ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৭৫ জন ভোটারের ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান ৫০ বছর।
এছাড়া ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৮১১ জন ভোটারের ক্ষেত্রে ঠাকুরদার বয়স সংক্রান্ত গরমিল রয়েছে। লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল তথ্য পাওয়া গেছে ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪০ জন ভোটারের তথ্যেও। তাঁদেরও শুনানিতে ডাকা হবে।
চলতি বিশেষ সংশোধনী পর্বে শুনানি প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারির পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গোটা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ৪ হাজার মাইক্রো রোল অবজার্ভার (Micro Roll Observer) নিয়োগের কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও প্রাথমিকভাবে এই সংখ্যা ৩,৩০০-র আশপাশে ছিল।
শনিবার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন শীর্ষ আধিকারিকদের (Central Govt Officials) সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ ‘বি’ বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মীদেরই মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। কেন্দ্রীয় PSU, জাতীয়কৃত ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দফতরের কর্মীদের থেকেই এই অবজার্ভার বাছাই করা হবে।
মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব হবে শুনানি পর্বের প্রতিটি ধাপ নজরে রাখা। কোথাও কোনও অনিয়ম বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁরা প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) ও এএইচআরও-কে (AERO) জানাবেন। প্রয়োজনে বিষয়টি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) নজরেও আনা হবে। কমিশনের আশা, শনিবারের মধ্যেই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
