বাংলার খবর
ভোটার তালিকায় ১ লাখ মতুয়ার নাম বাদ? শান্তনু ঠাকুরের দাবিতে অসীম সরকারের জবাব
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১ লক্ষ মতুয়া ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে বলে দাবি করেছেন শান্তনু ঠাকুর। এই নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক অসীম সরকার। নাগরিকত্ব ও ভোটার অধিকার নিয়ে বড় লড়াই।
নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এরই মাঝে বনগাঁর (Bongaon) সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ১ লক্ষ মতুয়া ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় আতঙ্ক (Panic) ছড়িয়েছে।
কী বললেন শান্তনু ঠাকুর? সোমবার বনগাঁর গাড়াপোতায় বিজেপির একটি প্রতিবাদ সভায় অংশ নিয়ে শান্তনু ঠাকুর বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে যদি ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ যায়, তবে সেখানে আমাদের ১ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেলে তা আমাদের সহ্য করতে হবে।” তিনি যুক্তি দেন যে, ওপার থেকে তারা সবাই প্রাণ হাতে করে এখানে এসেছিলেন। শান্তনুর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, মতুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজেপি নিজেই সংশয় (Uncertainty) তৈরি করছে।
অসীম সরকারের পালটা জবাব: শান্তনু ঠাকুরের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হরিণঘাটার (Haringhata) তৃণমূল বিধায়ক অসীম সরকার। তিনি মনে করেন, শান্তনু ঠাকুর হয়তো আন্দাজে কথা বলছেন অথবা তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। অসীম সরকারের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই নাগরিকত্ব (Citizenship) চলে যাওয়া নয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “স্বাভাবিক নিয়মেই ভোটার তালিকা সংশোধন হয়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু মৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ে। আবার যারা নিয়ম অনুযায়ী ভোটার হওয়ার যোগ্য নন, তাঁদের নামও বাদ যায়। এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া (Administrative Process)।” অসীম সরকারের আশ্বাস, যাঁদের নাম বাদ পড়বে তাঁরা ফের আবেদনের মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
মতুয়াদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা: মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্দেশে অসীম সরকার বলেন, “মতুয়া ভোট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত (Secured) রয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে এই বিষয়টিকে নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, তিনি নিজের বিধানসভা এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না যায়।
প্রশাসনিক এই সংশোধন নিয়ে শান্তনু ও অসীমের এই ভিন্ন সুর এখন সীমান্ত জেলাগুলির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাধারণ মতুয়াদের মনে যে প্রশ্ন জেগেছে, তার উত্তর শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।
