বাংলার খবর
নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ডোমজুড়ে গণবিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ
হাওড়ার ডোমজুড়ে ৭ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে রণক্ষেত্র রাঘবপুর। অভিযুক্ত শ্রমিক পলাতক। জনরোষ রুখতে নামানো হয়েছে র্যাফ। পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্যে ফের শিশু নিগ্রহের এক নৃশংস অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। হাওড়ার ডোমজুড় (Domjur) ব্লকের অন্তর্গত রাঘবপুর এলাকায় সাত বছরের এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের (Rape) অভিযোগ উঠল এক শ্রমিকের বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা (Tension) ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। উত্তেজিত জনতা একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাঘবপুর এলাকায় বর্তমানে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। সেই কাজের জন্যই এলাকায় বেশ কিছু বাইরের শ্রমিকের যাতায়াত বেড়েছে। অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় ওই রাস্তা তৈরির কাজে যুক্ত এক শ্রমিক স্থানীয় একটি সাত বছরের নাবালিকাকে প্রথমে শ্লীলতাহানি (Molestation) করেন। এরপর তাকে একটি নির্মীয়মান বাড়িতে (Under-construction building) নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন – দেশের ৫ হাজারের বেশি সরকারি স্কুলে নেই একজনও পড়ুয়া, তালিকায় ওপরের দিকেই বাংলা
জনরোষ ও পুলিশের ভূমিকা
খবরটি জানাজানি হতেই রাঘবপুরে জনরোষ (Public Outrage) আছড়ে পড়ে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশকে বারবার ফোন করা হলেও তারা পৌঁছাতে দেরি করে। এই বিলম্বের অভিযোগেই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জনতা। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যে, এলাকায় থাকা চারটি ছোট ম্যাটাডোর ভ্যান এবং একটি বাইক ভাঙচুর করা হয়। এমনকি একটি ম্যাটাডোরে আগুন (Arson) ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অভিযুক্তের পরিচয় ও বর্তমান পরিস্থিতি
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত শ্রমিক মদ্যপ অবস্থায় এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত। ঘটনার দিন সকালেও সে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি উল্টে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক (Absconding)। যদিও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ (Written Complaint) জমা পড়েনি। তবে মৌখিক অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। নির্যাতিতা শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার (Medical Examination) জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
