রাজনীতি
দিল্লি দরবারে সফল শঙ্কুদেব পাণ্ডা, কেন্দ্রীয় রেল মানচিত্রে পাকাপাকি জায়গা পেল চণ্ডীপুর
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রেলের মানচিত্রে জায়গা করে নিল চণ্ডীপুর। শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে ও শঙ্কুদেব পণ্ডার তৎপরতায় খুশির হাওয়া পূর্ব মেদিনীপুরে।
জয় চক্রবর্তী, কলকাতা: দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে অবশেষে ভারতের রেল মানচিত্রে (Railway Map) পাকাপাকি জায়গা করে নিল পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডার নিরলস দৌড়ঝাঁপে চণ্ডীপুরে একটি নতুন ‘হল্ট স্টেশন’ তৈরির সবুজ সংকেত (Green Signal) দিল রেল মন্ত্রক। রেলের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে খুশির জোয়ার জেলা জুড়ে।
দিল্লির দরবারে জোরালো সওয়াল সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীর দুটি পৃথক চিঠি নিয়ে দিল্লির রেল ভবনে উপস্থিত হন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে তিনি চণ্ডীপুর এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি ও দীর্ঘদিনের দাবির কথা সবিস্তারে জানান। মন্ত্রীর কাছে দেওয়া চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এই স্টেশনটি হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পাবে। রেলমন্ত্রী দাবিটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং সাক্ষাতের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে (South Eastern Railway) এই কাজের জন্য দরপত্র বা টেন্ডার (Tender) আহ্বান করেছে।
অর্থনৈতিক মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত চণ্ডীপুর বা মঠচণ্ডীপুর বাজার দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র (Business Hub)। রূপনারায়ণ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বাজারটি আজও নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর ও ময়নার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে চণ্ডীপুরে নিজস্ব স্টেশন না থাকায় বাসিন্দাদের তমলুক বা কাঁথি স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই হল্ট স্টেশনটি চালু হলে কী কী সুবিধা হবে?
-
কৃষিজাত পণ্য: স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক ও মৎস্যজীবীদের পণ্য পরিবহনে (Transportation) বিশাল গতি আসবে।
-
পর্যটন শিল্প: দিঘা-মন্দারমণি পর্যটন করিডোর (Tourism Corridor) আরও শক্তিশালী হবে।
-
বিকল্প যোগাযোগ: নির্মীয়মাণ দিঘা-জলেশ্বর রেলপথ সম্পূর্ণ হলে চণ্ডীপুরের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের বিকল্প যোগাযোগ পথ খুলে যাবে।
মমতা সরকারকে কটাক্ষ শুভেন্দুর রেলের এই সাফল্যের কৃতিত্ব ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকারের চরম ব্যর্থতায় এলাকার রাস্তাঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) কার্যত বন্ধ। বর্ষাকালে নিকটবর্তী স্টেশনে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য। কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের এই দ্রুত পদক্ষেপকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘বিকাশ’ ও ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ (Last Mile Connectivity) নীতির সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।
অন্যদিকে, শঙ্কুদেব পণ্ডা জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই দাবিকে যথেষ্ট সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখেছেন। দ্রুত কাজ শুরুর এই পদক্ষেপ পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষের কাছে বড় উপহার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হল্ট স্টেশনটি আগামিদিনে একটি বড় বাণিজ্যিক জংশনে রূপান্তরিত হতে পারে, যা জেলার সামগ্রিক উন্নয়নকে নতুন দিশা দেবে।
