রাজনীতি
জানেন কি! জেল ফেরত প্রাক্তন মন্ত্রী: ঠিক কতটা শিক্ষিত পার্থ চট্টোপাধ্যায়?
শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে আদালতে জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নজরকাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছে তাঁর। স্কুল থেকে ডক্টরেট পর্যন্ত তাঁর পড়াশোনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানুন এই প্রতিবেদনে।
‘আমি দুঃখকে সুখ ভেবে বইতে পারি’ – কিশোর কুমারের কণ্ঠে জনপ্রিয় এই গানের স্রষ্টা শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালির আবেগের জায়গা। তবে গত কয়েক বছরে এই কিংবদন্তি গীতিকারের নাম বারবার আলোচনায় এসেছে তাঁর ভাগ্নে তথা রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কারণে। আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের বংশগৌরব (Heritage) প্রমাণ করতে গিয়ে বারবার মামার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এমতাবস্থায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Qualification) আসলে কী?
স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়: নজরকাড়া একাডেমিক রেকর্ড
বেহালা পশ্চিমের দীর্ঘ ২৫ বছরের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৫২ সালে। তাঁর নির্বাচনী হলফনামা (Election Affidavit) অনুযায়ী, পড়াশোনায় তিনি বরাবরই মেধাবী ছিলেন।
-
স্কুল জীবন: ১৯৭০ সালে নিউ আলিপুর মাল্টিপার্পাস স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondary) পাশ করেন।
-
স্নাতক: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আশুতোষ কলেজ থেকে ১৯৭৩ সালে ইকোনমিকস বা অর্থনীতিতে অনার্স নিয়ে স্নাতক (Graduate) হন।
-
মাস্টার্স ও আইন: ১৯৮১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (MBA) সম্পন্ন করেন। এর ঠিক পরের বছরই অর্থাৎ ১৯৮২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (LLB) বা আইনের ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিদেশের ডিগ্রি ও ডক্টরেট বিতর্ক
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শিক্ষার দৌড় শুধু দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৮৭ সালে তিনি ব্রিটেনের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোস্যাইটি’ থেকে পিএমআর (PMR) ডিগ্রি লাভ করেন। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে তাঁর ডক্টরেট নিয়ে। ২০১৫ সালে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পদে থাকাকালীন তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি (PhD) সম্পন্ন করেন। যদিও ক্ষমতায় থাকাকালীন এই উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে অনেকবার কটাক্ষ (Criticism) করা হয়েছে।
আরও পড়ুন – লাইমলাইটের বাইরে থাকা এক ‘রত্ন’, রতন টাটার ভাই জিমির অবিশ্বাস্য সাদাসিধে জীবন কাহিনী
মামা শিবদাস ও আইনি লড়াই
২০২২ সালের জুলাই মাসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি (Enforcement Directorate) তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ দুই বছর তিন মাস কারাবাসের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে (Bail) মুক্ত হয়েছেন। আদালত কক্ষে সওয়াল করার সময় তিনি বারবার নিজেকে শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাগ্নে হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর দাবি ছিল, এমন এক সাংস্কৃতিক ও শিক্ষিত পরিবার থেকে এসে তিনি কোনো অন্যায়ের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শিক্ষাগত প্রোফাইল যথেষ্ট ঈর্ষণীয় (Impressive), তবে বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নিয়োগ দুর্নীতির আইনি জটিলতার আবর্তে আটকে রয়েছে।
