ভাইরাল
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলারকে জাত তুলে গালিগালাজ, অভিযুক্ত অধ্যাপক
মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ামককে জাত তুলে গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠল সহকর্মী অধ্যাপক ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত শিক্ষাঙ্গন।
মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Gour Banga) প্রশাসনিক স্তরে এক নজিরবিহীন বিবাদ প্রকাশ্যে এল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক (Controller of Examinations) বিশ্বরূপ সরকারকে প্রকাশ্যে জাত তুলে গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে এক অধ্যাপক এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যাপক অচিন্ত্যকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে অম্লানের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় (English Bazar Police Station) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে উপাচার্য (Vice-Chancellor) আশিস ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটনাটির প্রেক্ষাপট গত জুলাই মাসের। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, অধ্যাপক অচিন্ত্যকুমারের ছেলে অম্লান বাংলা বিভাগের ২০২৩-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং ২০২৫ সালে তিনি চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষায় বসেন। অভিযোগ উঠেছে, গত ৮ জুলাই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ছেলের রেজাল্টের গোপন তথ্য জানতে পরীক্ষা নিয়ামক বিশ্বরূপ সরকারের চেম্বারে যান অচিন্ত্যবাবু। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও গোপনীয়তা (Confidentiality) বজায় রাখতে বিশ্বরূপবাবু সেই তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।
গোপন তথ্য ও জাতিগত আক্রমণের অভিযোগ অভিযোগকারী পরীক্ষা নিয়ামকের দাবি, তথ্য দিতে অস্বীকার করার পরই অধ্যাপক অচিন্ত্যকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জাতি (Caste) তুলে কুরুচিকর মন্তব্য ও গালিগালাজ শুরু করেন। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনও পরীক্ষার্থীর অভিভাবক পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ছেলের পরীক্ষা চলাকালীনও প্রশ্নপত্র তৈরি এবং পরীক্ষক নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অচিন্ত্যবাবু। এই অনিয়মের কারণে ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের (Faculty Council) বৈঠকে তাঁর ছেলের চতুর্থ সেমেস্টারের রেজাল্ট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
থানায় অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানসিক হেনস্থার (Mental Harassment) প্রতিবাদে অবশেষে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন বিশ্বরূপ সরকার। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের এক জন অধ্যাপক ও তাঁর ছেলের এমন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক। জাতি তুলে এমন মন্তব্য করলে পড়ুয়ারা কী শিখবে? অপমান সহ্য করতে না পেরে আমি পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি”। অন্যদিকে, অভিযুক্ত অধ্যাপক অচিন্ত্যকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি এফআইআর (FIR) সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না। হাতে আইনি কাগজ পাওয়ার পরই তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া দেবেন।
