দেশের খবর
দেশের ৫ হাজারের বেশি সরকারি স্কুলে নেই একজনও পড়ুয়া, তালিকায় ওপরের দিকেই বাংলা
সংসদে পেশ করা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫ হাজারের বেশি সরকারি স্কুলে একজনও পড়ুয়া ভর্তি হয়নি। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও তেলেঙ্গানার স্কুলই ৭০ শতাংশ। কেন বাড়ছে এই শূন্যতা?
স্কুল ভবন (School building) আছে, রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকাও। ক্লাসরুমে বেঞ্চ থেকে ব্ল্যাকবোর্ড সবই মজুত। এমনকি প্রতি বছর নিয়ম করে সরকার অর্থ বরাদ্দও (Budget allocation) করে যাচ্ছে। কিন্তু ক্লাসরুমগুলো খাঁ খাঁ করছে। গত এক বছরে একজন ছাত্রছাত্রীও সেখানে পা রাখেনি। সাম্প্রতিক সংসদীয় (Parliamentary) রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমনই এক উদ্বেগজনক ছবি ধরা পড়েছে।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে (Academic year) সারা দেশের ৫,১৪৯টি সরকারি স্কুলে একজন পড়ুয়াত্ত ভর্তি হয়নি। আরও ভয়ের বিষয় হলো, এই তালিকার প্রায় ৭০ শতাংশ স্কুলই অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলেঙ্গানায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ৫,১৪৯টি স্কুলের মধ্যে প্রায় ৩,৬০০ থেকে ৩,৭০০টি স্কুল রয়েছে এই দুটি রাজ্যে।
আরও পড়ুন – জানুয়ারিতেই খুলবে কপাল, ৫ রাশির জীবনে রাজযোগের ছোঁয়ায় আসবে বিলাসিতা ও নতুন চাকরি
পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটি আরও গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সরকারি তথ্য (Government statistics) বলছে, এ রাজ্যে ৬,৭০৩টি সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১০ বা তারও কম। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই স্কুলগুলিতে ২৭,৩৪৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন। সবচেয়ে কম পড়ুয়া ভর্তি হওয়া স্কুলের তালিকায় ১০ শতাংশই এ রাজ্যের। অন্যদিকে তেলেঙ্গানায় এমন স্কুলের সংখ্যা ৫,০২১টি।
উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান বা মহারাষ্ট্রের মতো বড় রাজ্যগুলোতেও ছবিটা খুব একটা আলাদা নয়। তবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (Union Territory) যেমন চণ্ডীগড়, লাক্ষাদ্বীপ বা দমন ও দিউ-তে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে এমন একটি স্কুলও নেই যেখানে পড়ুয়া শূন্য। পুদুচেরিতে এমন মাত্র ২টি স্কুলের হদিস মিলেছে।
প্রশ্ন উঠছে, স্কুল চালু থাকা এবং অর্থ খরচ হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রছাত্রীরা কোথায় যাচ্ছে? শিক্ষাবিদদের (Educationists) মতে, অভিভাবকরা এখন অনেক বেশি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের (English medium schools) দিকে ঝুঁকছেন। পরিকাঠামোগত অভাব এবং শিক্ষার গুণগত মানের (Quality of education) অভাবকেও এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের ভৌগোলিক অবস্থান (Geographical location) এমন জায়গায় যেখানে এখন আর বসতি নেই বা পড়ুয়া পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সরকারি স্কুলগুলো কি পারবে তাদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে? নাকি আগামী দিনে এই শূন্যতা আরও বাড়বে? উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা থাকল।
