কাঞ্চনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘিরে বিতর্কের মাঝেই শ্রীময়ীর একমাত্র ভরসা ছিলেন দাদু
Connect with us

বিনোদন

কাঞ্চনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘিরে বিতর্কের মাঝেই শ্রীময়ীর একমাত্র ভরসা ছিলেন দাদু

বিতর্ক, কটূক্তি আর শিরোনামের ভিড়ে শ্রীময়ীর জীবনের একমাত্র ভরসা ছিলেন দাদু। স্মৃতি আর আশীর্বাদেই আজও বেঁচে তাঁর উপস্থিতি।

Joy Chakraborty

Published

on

কিছু সম্পর্ক সময়ের নিয়ম মানে না। সেখানে মৃত্যু (death) শেষ নয়, বরং স্মৃতির ভিতর দিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকা। শ্রীময়ী চট্টরাজের (Sreemoyee Chattoraj / Sreemoyee Chattoraj Mullick) জীবনে ‘দাদু’ ঠিক তেমনই এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়—যাঁর চলে যাওয়া মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়, বরং শৈশব (childhood), নিরাপত্তা (security), নিঃশর্ত বিশ্বাস (unconditional trust) আর নিখাদ ভালোবাসার এক সম্পূর্ণ জগতের বিদায়।

কিছুদিন আগেই জীবনের সবচেয়ে শক্ত স্তম্ভকে হারিয়েছেন শ্রীময়ী। কোলে ছোট্ট মেয়ে কৃষভিকে নিয়ে দাদুর আশীর্বাদ পাওয়ার স্বপ্ন (blessing dream) আর পূরণ হল না—এই আক্ষেপ আজও গভীর ক্ষতের মতো রয়ে গেছে তাঁর মনে। সেই না-বলা কষ্ট, জমে থাকা আবেগই শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) প্রকাশ পেল। দাদুর সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নিয়ে শ্রীময়ী যেন খুলে দিলেন হৃদয়ের গোপন দরজা।

শ্রীময়ীর কাছে দাদু শুধু পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন না—তিনি ছিলেন শিক্ষা (lesson), দর্শন (philosophy) আর জীবনবোধের প্রতীক। দাদু-দিদার সম্পর্ক দেখেই শ্রীময়ী শিখেছিলেন, জীবন মানে কীভাবে একে অপরের হাত ধরে বুড়িয়ে যাওয়া। অল্প বয়সে তাঁদের বিয়ে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাহ্যিক সবকিছুকে ছাপিয়ে উঠে এসেছিল দু’টি আত্মার বন্ধন—ভরসা (trust), নির্ভরতা (reliability) আর বন্ধুত্বের (friendship) এক অনন্য গল্প।

বিয়ে হয়েছে, মা হয়েছেন, অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন—তবু দাদুর চোখে শ্রীময়ী চিরকালই সেই আদরের ‘গুড়িয়া’। দুর্গাপুজো এলেই সবার আগে টাকা পাঠানো, নতুন জামার খবরে আনন্দে ভরে যাওয়া—এসবই ছিল দাদুর ভালোবাসার প্রকাশ। শ্রীময়ীর প্রতিটি নতুন কাজ শুরুর আগে আশীর্বাদের ফোন (blessing call) আসত দাদুর কাছ থেকে। আত্মীয়স্বজনের সামনে গর্ব করে বলতেন, গুড়িয়া শুধু তাঁদের নাতনি নয়, তাঁদের উত্তরাধিকার (legacy)।

Advertisement

শ্রীময়ী ও কাঞ্চন মল্লিকের (Kanchan Mullick) সম্পর্ক যখন চারদিকে বিতর্ক (controversy), কটূক্তি আর শিরোনামের ভিড়ে বিদ্ধ, তখন দাদুই ছিলেন সেই নীরব ঢাল। সোশ্যাল মিডিয়া না দেখলেও মানুষের মুখে মুখে পৌঁছত নানা কথা। তবু দাদুর বিশ্বাস ছিল অটল—তিনি জানতেন, তাঁর নাতনি কখনও ভুল পথে হাঁটতে পারে না।

শ্রীময়ীর বিয়ের সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আশীর্বাদের কোনও অভাব রাখেননি দাদু। কাঞ্চনকে ডেকে বলেছিলেন, তিনি খুশি—নাত জামাই পেয়েছেন। একটাই অনুরোধ ছিল, নাতনিটাকে যেন ভালো রাখা হয়। সেই আশীর্বাদ আজও শ্রীময়ীর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি (strength)।

দিদার অসুস্থতার সময় দাদুর উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বারবার ফোন করে জানতে চাইতেন, দিদা কি সত্যিই সুস্থ হবে? ফিরবে তো? দিদা ফিরেছিলেন—নতুন করে সংসারের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই সংসারের আরেক অর্ধেক, দাদুই হঠাৎ করে সব ছেড়ে চলে গেলেন। আর কোনও দিন ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠবে না ‘Dadu Calling’।

শ্রীময়ীর স্মৃতিতে দাদু আর দিদা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। আলাদা করে কখনও কল্পনাও করেননি তাঁদের। একমাথা সিঁদুর পরে দিদা বলতেন, দাদুর জন্যই তিনি বেঁচে আছেন। দাদুও বলতেন, দিদা ছাড়া তাঁর জীবন অসম্পূর্ণ। তাই আজ শ্রীময়ীর মনে একটাই আশঙ্কা—এই বিচ্ছেদ কতদিন সহ্য করতে পারবেন দিদা?

Advertisement

লেখার শেষদিকে শ্রীময়ীর কণ্ঠ আরও নরম, আরও প্রার্থনাময়। দাদুর শান্তির কামনা (peace prayer) করে তিনি লেখেন—এই জীবনে যা যা অপূর্ণ রয়ে গেল, যেন নতুন জন্মে তার সবটাই পূর্ণ হয়। আর নিজের জন্য রেখে দেন এক নীরব প্রতিশ্রুতি—এই মানুষটিকে কোনও দিন ভুলতে পারবেন না তিনি।

দাদু চলে গিয়েছেন, কিন্তু ভালোবাসা যায়নি। স্মৃতির এক কোণে, হৃদয়ের গভীরে, শ্রীময়ীর জীবনের প্রতিটি ধাপে দাদু রয়ে যাবেন—চিরকাল, নিঃশর্ত, নীরব আলো হয়ে।

Dwip Narayan Chakraborty is a dedicated journalist, digital content creator, and web strategist at Bengal Xpress. With a strong background in web design, digital marketing, and news media, he crafts compelling regional and national stories that inform, engage, and inspire. Dwip brings a unique blend of technical expertise and editorial vision, ensuring Bengal Xpress remains at the forefront of digital journalism in West Bengal. When he's not writing or managing the site, he's exploring new tools to innovate online news delivery.

Continue Reading
Advertisement