দেশের খবর
Gold Silver Price Drop Today: সোনা ও রুপোর দামে ঐতিহাসিক পতন
বাজারে বড়সড় পতনের কবলে সোনা ও রুপো। এমসিএক্স (MCX) চার্টে সোনার দর ৪ শতাংশ এবং রুপোর দাম ২১ হাজার টাকা কমেছে। শান্তি আলোচনার প্রভাবে লগ্নিকারীদের মধ্যে প্রফিট বুকিংয়ের হিড়িক।
নয়াদিল্লি: বিশ্ব বাজারে গত কয়েক মাস ধরে সোনা ও রুপোর যে ঊর্ধ্বমুখী দৌড় দেখা যাচ্ছিল, তাতে আচমকাই বড়সড় ছেদ পড়ল। বিশেষজ্ঞরা আগেই এমন একটি ‘বুদবুদ’ (Bubble) ফেটে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা মঙ্গলবার সকালে সত্যি প্রমাণিত হলো। এক ধাক্কায় সোনা ও রুপোর দামে বিশাল পতন (Market Crash) বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনলেও, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে গয়না কেনার সুযোগ করে দিয়েছে।
টলে গেল সোনার বাজার দীর্ঘদিন ধরেই সোনার দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমতেই বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের লভ্যাংশ (Profit Booking) তুলে নিতে শুরু করেছেন। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা এমসিএক্স (MCX) অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকেই সোনার দরে ধস নামতে থাকে। যেখানে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকার আশেপাশে ঘুরছিল, তা ৪ শতাংশ পড়ে গিয়ে বর্তমানে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার ঘরে নেমে এসেছে। বিশ্ব বাজারে (International Market) প্রতি আউন্স সোনার দর ৪ হাজার ৫৪০ ডলারের গন্ডি ছোঁয়ার পর এই হঠাৎ পতন সাম্প্রতিক সময়ে বিরল ঘটনা।
রুপোর দামে নজিরবিহীন ধস সোনার চেয়েও বেশি করুণ অবস্থা রুপোর। গত এক বছরে এই ধাতু ১৪০ শতাংশ রিটার্ন (Return) দিলেও সোমবার এক রাতেই সব সমীকরণ বদলে গিয়েছে। এক ধাক্কায় রুপোর দাম ২১ হাজার টাকা কমে গিয়েছে। কয়েক দিন আগেই এমসিএক্স চার্টে রুপোর দাম ২ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা ছাড়িয়েছিল এবং প্রতি আউন্স ৮০ ডলার অতিক্রম করেছিল। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণে সেই লভ্যাংশের বড় একটি অংশই এখন উধাও। শুধু সোনা বা রুপো নয়, দাম পড়েছে প্ল্যাটিনামেরও (Platinum); যার দর এক দিনে প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে।
কেন এই হঠাৎ পতন? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই নাটকীয় পতনের প্রধান কারণ হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা (Peace Talks) বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখেছে। শোনা যাচ্ছে, ২০ দফা আলোচনার প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে। এই খবর বাজারে পৌঁছাতেই লগ্নিকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তারা সোনা-রুপোর মতো ‘সেফ হেভেন’ (Safe Haven) বিনিয়োগ থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঘরোয়া বাজারেও।
