দেশের খবর
রান্নার গ্যাসের ভর্তুকিতে বড় বদল, মার্কিন আমদানির প্রভাবে নতুন ফর্মুলা আনছে কেন্দ্র
সৌদি আরবের বদলে এখন আমেরিকা থেকে আসছে বিপুল পরিমাণ এলপিজি। পরিবহণ খরচ বাড়লেও গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে ভর্তুকির হিসেব পাল্টানোর পথে হাঁটছে কেন্দ্র।
আমেরিকা থেকে রান্নার গ্যাস বা লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর, দেশে ভর্তুকি নির্ধারণের পুরনো নিয়মে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের খবর, আমদানির উৎস বদলে যাওয়ার কারণে যে বাড়তি খরচের বোঝা তৈরি হচ্ছে, তার প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের পকেটে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই এই সংস্কারের কথা ভাবা হচ্ছে।
কেন বদলানো হচ্ছে ভর্তুকির নিয়ম?
এতদিন পর্যন্ত ভারতের প্রয়োজনীয় এলপিজির সিংহভাগ আসত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে। ফলে ভারতের ভর্তুকি নির্ধারণের মূল ভিত্তি ছিল ‘সৌদি কনট্র্যাক্ট প্রাইস’ (Saudi Contract Price)। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের দূরত্ব কম হওয়ায় পরিবহণ খরচ (Logistics Cost) ছিল স্থিতিশীল। কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করায় পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।
আমেরিকা থেকে কয়েক হাজার মাইল সমুদ্রপথ পেরিয়ে আসা গ্যাসের জন্য পরিবহণ খরচ অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, শুধুমাত্র সৌদি আরবের দামকে মাপকাঠি ধরলে মার্কিন গ্যাসের প্রকৃত খরচ বা ‘ল্যান্ডেড কস্ট’ (Landed Cost) সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। এই অসামঞ্জস্য মেটাতেই ভর্তুকির নতুন সূত্র (Formula) তৈরির সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে কেন্দ্র।
২০২৬ সাল থেকে বড় সরবরাহ
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম আমেরিকা থেকে বছরে প্রায় ২২ লক্ষ টন এলপিজি আমদানি করবে। এটি ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা (Volatility) থাকলে এই বিপুল পরিমাণ আমদানির ফলে তেল সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই চাপ নিয়ন্ত্রণ করতেই ভর্তুকির কাঠামোগত বদল প্রয়োজন।
সাধারণ গ্রাহকদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ফর্মুলা বদলের মূল উদ্দেশ্য গ্রাহকদের ওপর দামের বোঝা চাপানো নয়। বরং স্বচ্ছ উপায়ে ভর্তুকি নির্ধারণ করা, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও ভারত সরকার এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলো (Oil Marketing Companies) ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে ‘উজ্জ্বলা’ (Ujjwala Scheme) প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কথা মাথায় রেখেই অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
কৌশলগত ও আর্থিক ভারসাম্য
যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্যাস আমদানি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security) জোরদার করার একটি বড় কৌশল। একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করা, অন্যদিকে আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা। তবে এই বাড়তি সুরক্ষার জন্য যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তা যেন ‘আন্ডার রিকভারি’ (Under-recovery) বা তেল সংস্থাগুলোর লোকসান না বাড়ায়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই নতুন ফর্মুলা কার্যকর হলে ভারতের গ্যাস অর্থনীতির মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের রাজকোষের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা থেকে সুরক্ষা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
