বাংলার খবর
প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে লোক আদালতের বিচারক তমলুকের পার্বতী
জন্ম থেকেই নেই দুই হাত। একসময় মৃত্যুর কামনায় জলও দেওয়া হয়নি। সেই পার্বতীই আজ লোক আদালতে বিচারকের ভূমিকায়।
জন্মের পর থেকেই দু’টি হাত নেই। এমন এক শিশুকন্যাকে একসময় পরিবারেই বোঝা বলে মনে করা হয়েছিল। অভিযোগ, মৃত্যুর কামনায় টানা দু’দিন তার মুখে জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সেই শিশুই আজ সমাজের কাছে অনুপ্রেরণা। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipur) তমলুক (Tamluk) লোক আদালতে (Lok Adalat) বিচারকের ভূমিকায় দেখা গেল দিব্যাঙ্গ পার্বতী (Parbati) জানাকে।
তমলুকের পূর্বনখা এলাকার বাসিন্দা পার্বতী জন্মগতভাবে দুই হাতহীন। বাবা নিরঞ্জন জানা। চার বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার (Disability) কারণে প্রথম জীবনে তাঁকে ঘিরে ছিল অবহেলা ও ঘৃণা। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন পার্বতী।
২০১১ সালে চেন্নাইয়ে (Chennai) প্যারা অলিম্পিক্সে (Para Olympics) সাঁতারে বাংলার হয়ে সোনা ও রুপোর পদক জিতে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। খেলাধুলার পাশাপাশি ট্রেলারিং (Tailoring) প্রশিক্ষণ নেন, অক্টোপ্যাড (Octopad) বাজিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবেও।
শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (District Legal Services Authority) উদ্যোগে বছরের শেষ লোক আদালতে তাঁকে বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একদিনেই কয়েকশো মামলার নিষ্পত্তি করেন পার্বতী। হাত না থাকায় পা দিয়েই কোর্ট অর্ডারে (Court Order) সই করেন তিনি—যা উপস্থিত সকলের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সমাজে দিব্যাঙ্গ মহিলাদের (Divyang Women) আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা জোগাতেই এই সিদ্ধান্ত।
মেয়ের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা কিশোরী জানা বলেন, “সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি। আজ ওর জন্য আমি গর্বিত।”
