বাংলার খবর
মহাপঞ্চমীর দিনেই নাকাল মেট্রো, স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম মেট্রো কর্তৃপক্ষ
মহাপঞ্চমীর সকালেই কলকাতা মেট্রোয় ভিড়ের দাপট। একাধিক স্টেশনে দরজা বন্ধে সমস্যা, যাত্রীদের হুড়োহুড়িতে আহত মহিলা। কর্তৃপক্ষের ঘোষণা সত্ত্বেও ভোগান্তি কমেনি।
মহাপঞ্চমীর (Maha Panchami) সকাল থেকেই কলকাতার মেট্রোয় (Metro) শুরু হয়েছে চরম ভোগান্তি। যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্লু লাইন (Blue Line) অর্থাৎ দক্ষিণেশ্বর–শহিদ ক্ষুদিরাম (Dakshineswar–Shahid Khudiram) রুটে মোট ২৬২টি ট্রেন চলবে, বাস্তবে পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার সময় দমদম (Dum Dum) স্টেশনে শহিদ ক্ষুদিরামমুখী একটি ট্রেন এলেও ভিড় এতটাই ছিল যে বহু যাত্রী উঠতে পারেননি। কয়েক মিনিট পর আরেকটি ট্রেন এলে প্ল্যাটফর্মের ভিড় আরও বেড়ে যায়। ভিড়ের ঠেলায় এক মহিলা কামরার ভেতরে পড়ে যান। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে একাধিকবার মেট্রোর দরজা (Door) বন্ধ করতেও সমস্যা হয়।
এসপ্ল্যানেড (Esplanade) স্টেশনে অবশ্য ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষের একজন কর্মী বাঁশি বাজিয়ে যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবুও ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ি কিছুতেই এড়ানো যায়নি। যাত্রীদের বসার জন্য থাকা স্টিলের সিট (Steel Seat) সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভিড় কমানোর উদ্দেশ্যে।
আরও পড়ুন – নদিয়ায় ভারতীয় সেনাকে অপমান, ফেসবুক লাইভ থেকে যুবক গ্রেফতার
চতুর্থীর (Chaturthi) সন্ধ্যা থেকেই ব্লু লাইনে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার রাত সাড়ে নটার পর এসপ্ল্যানেড স্টেশনে দমদমমুখী ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ভিড়ে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। কবি সুভাষ (Kavi Subhash)মুখী প্ল্যাটফর্মেও একই চিত্র। একাধিকবার মাইকে ঘোষণা করা হয়—পিছনে আরও ট্রেন রয়েছে, অযথা একটি ট্রেনেই যেন অতিরিক্ত চাপ না হয়। কিন্তু যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করতে থাকেন, ফলে বারবার দরজা বন্ধ করতে দেরি হয়।
শ্যামবাজার (Shyambazar), শোভাবাজার (Shobhabazar), বেলগাছিয়া (Belgachia) স্টেশনেও একই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে দমদম পৌঁছনোর পর ভিড় কিছুটা কমতে দেখা যায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, সকালে যদি এই অবস্থা হয়, তবে সন্ধ্যায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ফলে পুজোর মরশুমে স্বস্তির বদলে মেট্রো ভ্রমণ হয়ে উঠছে নাকাল অভিজ্ঞতা।
