রাজনীতি
চলতি সপ্তাহেই সোনালির সঙ্গে দেখা করতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলাদেশে পুশব্যাক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু সোনালি খাতুনের সঙ্গে চলতি সপ্তাহেই সাক্ষাৎ করতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালেই ভর্তি সোনালি, কালীঘাটে বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) খুব শিগগিরই সোনালি খাতুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই কালীঘাটে (Kalighat) হতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে উঠে আসছে আগামী ১৯ ডিসেম্বর অথবা ২০ ডিসেম্বর।
এদিকে বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারতে ফেরার পর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন সোনালি বিবি। জানা গিয়েছে, পেটে তীব্র ব্যথা (abdominal pain) নিয়ে তাঁকে ফের ভর্তি করা হয়েছে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (Rampurhat Medical College and Hospital)। বর্তমানে তাঁকে স্পেশাল অবজারভেশনে (special observation) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সোনালি খাতুনকেই আগে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ (BSF – Border Security Force) বাংলাদেশে পুশব্যাক (pushback) করেছিল। সেই সময় তিনি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা (pregnant) এবং বাংলাদেশে তাঁকে জেলেও থাকতে হয়েছিল। শুরু থেকেই এই ঘটনায় সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
পরবর্তীতে বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant) স্পষ্টভাবে বলেন, মানবিকতার (humanitarian grounds) খাতিরে অনেক ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো প্রয়োজন। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে সোনালি ও তাঁর সন্তানের (child) নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
সুপ্রিম কোর্ট সোনালিকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তাঁর নাগরিকত্ব (citizenship) নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, যদি সোনালির বাবা ভারতীয় নাগরিক হন এবং তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানো না হয়ে থাকে, তাহলে কোন যুক্তিতে সোনালিকে বাংলাদেশি বলা হল? যেহেতু তাঁর বাবা ভারতীয়, সেহেতু সোনালিও ভারতীয়—এই যুক্তিতেই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরেন সোনালি খাতুন।
এর আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি সোনালির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করবেন। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই সম্ভবত হতে চলেছে চলতি সপ্তাহেই।
