রাজনীতি
নারী চিকিৎসকের হিজাব নিয়ে আচরণ, বিরোধীদের তোপে নীতীশ কুমার
নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে এক নারী আয়ুষ চিকিৎসকের হিজাব টেনে নামানোর অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। বিরোধীদের সমালোচনা ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপ।
এক নারী চিকিৎসকের হিজাব (Hijab) টেনে নামানোকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর বর্ষীয়ান নেতা নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (Social Media) ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
সোমবার বিহার সচিবালয়ে (Bihar Secretariat) আয়োজিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ১২০০-রও বেশি আয়ুষ (AYUSH – Ayurveda, Yoga, Unani, Siddha, Homeopathy) চিকিৎসকদের হাতে নিয়োগপত্র (Appointment Letter) তুলে দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় হিজাব পরিহিত এক নবনিযুক্ত মুসলিম নারী চিকিৎসক মঞ্চে এগিয়ে এলে আচমকাই নীতীশ কুমার তার হিজাব টেনে নিচে নামিয়ে দেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “এটা কী?”—এরপর সামনের দিকে ঝুঁকে ওই নারী চিকিৎসকের হিজাব সরিয়ে দেন। ঘটনাটি উপস্থিত অতিথি, মন্ত্রী ও সরকারি আধিকারিকদের মধ্যেও বিস্ময় সৃষ্টি করে।
ভাইরাল ভিডিওতে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রীকে থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। একইসঙ্গে মুখ্যসচিব দীপক কুমার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পান্ডেকে হাসতে দেখা যাওয়ায় তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শুরু করে। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির নেতৃত্বাধীন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বলে,
“নারীদের সম্মান (Dignity) ও নিরাপত্তা (Safety) রক্ষার দায় কার? মুখ্যমন্ত্রী নিজেই যদি এমন আচরণ করেন!”
কংগ্রেসও এক্স (X – Formerly Twitter) মাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করে নীতীশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে। কংগ্রেসের বক্তব্য,
“রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে বসে এমন আচরণ নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।”
রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) নীতীশ কুমারের মানসিক অবস্থার (Mental Condition) বিষয়েও প্রশ্ন তোলে। আরজেডি মুখপাত্র এজাজ আহমেদের দাবি,
“এটি জেডিইউ-বিজেপি জোটের নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতি মনোভাব স্পষ্ট করে।”
এদিকে দেওবন্দি আলেম ক্বারী ইসহাক গোরাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একজন নারীর হিজাব টেনে নামানো তার ধর্মীয় স্বাধীনতা (Religious Freedom) ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার (Privacy) ওপর সরাসরি আঘাত।”
তবে বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জনতা দল (ইউনাইটেড) দাবি করেছে, বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে। দলের মুখপাত্র নীরজ কুমারের বক্তব্য,
“নীতীশ কুমার বিহারে নারী ও সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন।”
সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী জামা খান বলেন,
“মুখ্যমন্ত্রী শুধুই স্নেহ প্রকাশ করেছেন। বিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটিকে বিকৃত করছে।”
এই ঘটনার ভিডিও আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা ঘটনাটিকে মুসলিম নারীদের প্রতি অসম্মান (Disrespect) ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার (Patriarchy) উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাই এখন বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
