রাজনীতি
মোদীর সভা ও জাতীয় সড়ক প্রকল্প উদ্বোধন: কী বিষয়গুলো উঠতে পারে আলোচনায়
মতুয়াগড় রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তাহেরপুরে শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসভা ও জাতীয় সড়ক প্রকল্প উদ্বোধন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, রাজনৈতিক বার্তা কী হবে তা নিয়ে আগ্রহ।
শনিবার মতুয়াগড় (Matua Ghar) রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তাহেরপুর (Taherpur)-এ প্রশাসনিক কর্মসূচি ও জনসভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। তাঁর সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকড়ী (Nitin Gadkari)। এই সফরে মোদী জাতীয় সড়ক (National Highway) সংক্রান্ত দু’টি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করবেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা কীভাবে পৌঁছবে, সেই দিকেও নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে এসপিজি (SPG) ও রাজ্য পুলিশ (West Bengal Police) কড়া তৎপরতা চালাচ্ছে। কর্মসূচির ২৪ ঘণ্টা আগে থেকেই তাহেরপুর ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী বীরনগরের (Birnagar) বিভূতি পার্ক পর্যন্ত সব জায়গাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তাহেরপুরের সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে কলকাতায় ফিরে আসবেন, সেখান থেকে বিমান ধরে গুয়াহাটির (Guwahati) উদ্দেশে রওনা দেবেন।
সভাস্থল নেতাজি পার্ক ময়দান (Netaji Park Ground)। হেলিপ্যাড সভাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টা ৫ মিনিটে মোদী হেলিপ্যাডে নামবেন এবং ১১টা ১৫ মিনিটে সভাস্থলে পৌঁছাবেন। প্রথমে ৩০ মিনিট প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা অনুযায়ী, তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের জাতীয় সড়ক প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এর মধ্যে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH 12)-এর কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার অংশ চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে, যা উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া বারাসত থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার জাতীয় সড়কের শিলান্যাসও করবেন।
বেলা ১২টা থেকে ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবারের মতো এসআইআর (SIR) শুরুর পর মোদীর বক্তব্যে রাজনৈতিক মহল বিশেষ আগ্রহী। বিশেষ করে ভোটার তালিকা (Voter List) সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাসমূলক বার্তা দিতে পারেন। এছাড়া সভাস্থলের আশেপাশে ফুলিয়া (Phulia) ও শান্তিপুর (Shantipur)—তাঁতশিল্প (Handloom) কেন্দ্র—অবস্থিত, তাই তাঁতশিল্পীদের উদ্দেশে আলাদা বার্তা থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক ভাষণে মোদী পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও বাঙালির গৌরব উল্লেখ করেছেন। নদিয়া জেলার সভা হওয়ায় চৈতন্য মহাপ্রভুর (Chaitanya Mahaprabhu) মাহাত্ম্যও সভায় উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
