লাইফস্টাইল
শীতে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কেন বাড়ে? জয়েন্টের যন্ত্রণা কমানোর সহজ উপায়
শীতকাল এলেই আর্থ্রাইটিসের ব্যথা অনেকের জীবনে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সঠিক ব্যায়াম, ডায়েট ও কিছু অভ্যাস বদলালেই এই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শীতকাল শুরু হলেই বহু মানুষ আর্থ্রাইটিসের ব্যথায় (Arthritis pain) ভোগেন। হাঁটু, কোমর, আঙুল কিংবা কাঁধের জয়েন্টে (Joint) শক্তভাব, ফোলা ও যন্ত্রণা দৈনন্দিন জীবনকে অনেকটাই দুর্বিষহ করে তোলে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রক্ত সঞ্চালন (Blood circulation) ধীর হয়ে যায়, পেশি ও লিগামেন্ট (Ligament) শক্ত হয়ে পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে জয়েন্টের উপর। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে শীতকালেও এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শরীর গরম রাখা জরুরি
শীতে আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণের প্রথম শর্তই হল শরীর গরম রাখা। ঠান্ডা লাগলে জয়েন্টের চারপাশের পেশি সঙ্কুচিত হয়ে ব্যথা বাড়ায়। তাই উষ্ণ পোশাক পরা অত্যন্ত প্রয়োজন। হাঁটু বা কনুইয়ের ক্ষেত্রে উলের বা নিওপ্রিন (Neoprene) সাপোর্ট ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। সকালে বা রাতে গরম সেঁক (Hot compress) দিলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় ও শক্তভাব কমে। অনেকেই গরম জলে স্নান করলে আরাম পান।
নিয়মিত ব্যায়াম উপকারী
ব্যথার ভয়ে শীতকালে অনেকেই চলাফেরা কমিয়ে দেন, কিন্তু এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম জয়েন্টকে সক্রিয় ও নমনীয় রাখে। ধীরে হাঁটা, স্ট্রেচিং (Stretching), যোগাসন কিংবা ফিজিওথেরাপিস্টের (Physiotherapist) পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করলে ব্যথা অনেকটাই কমে। সকালে রোদে ব্যায়াম করলে ভিটামিন ডি (Vitamin D) পাওয়া যায়, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি।
খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
শীতে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রদাহ (Inflammation) কমাতে সাহায্য করে এমন খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত। হলুদ, আদা ও রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (Anti-inflammatory) হিসেবে কাজ করে। ওমেগা-৩ (Omega-3) ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ, আখরোট ও ফ্ল্যাক্স সিড জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সহায়ক। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম (Calcium) ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার হাড়কে শক্ত রাখে। অতিরিক্ত চিনি, ভাজা ও প্রসেসড (Processed food) খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন আর্থ্রাইটিসের ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে হাঁটু ও কোমরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে জয়েন্টের উপর চাপ কমে এবং ব্যথাও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন
শীতে শরীর দ্রুত শক্ত হয়ে যায়, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। আরামদায়ক ভঙ্গিতে ঘুমানো, প্রয়োজন অনুযায়ী গরম কম্বল ব্যবহার করলে উপকার মেলে। ব্যথা যদি অসহনীয় হয়ে ওঠে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ বা ফিজিওথেরাপি নেওয়াই বুদ্ধিমানের।
