আন্তর্জাতিক
ওসমান হাদির মৃত্যুতে লাভবান কারা? জামাত-শিবির না অন্য কেউ ?
ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল বাংলাদেশ। তদন্তে ধীরগতি আর রাজনৈতিক দোষারোপের মধ্যে উঠে আসছে নতুন সমীকরণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্থিরতা থেকে ফায়দা লুটছে সাম্প্রদায়িক শক্তি।
নিজস্ব প্রতিবেদন: গত বৃহস্পতিবার রাতে ওসমান হাদির মৃত্যু সংবাদ বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিস্থিতি কার্যত লণ্ডভণ্ড (Turbulent) হয়ে পড়েছে। একদিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ইউনূস প্রশাসনের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছেন, অন্যদিকে এই মৃত্যু ঘিরে উঠতে শুরু করেছে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। হাদির প্রয়াণে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান (Beneficiary) কে বা কারা?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডে বিএনপি বা বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লিগ খুব একটা লাভবান হচ্ছে না। বরং তাঁদের ইঙ্গিত এমন এক শক্তির দিকে যারা মূলত দেশের গণতান্ত্রিক ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে এবং সাম্প্রদায়িক ভীতি ও অশান্তি তৈরি করতে সচেষ্ট।
ভারত-বিরোধী সুর ও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত: গত ১২ ডিসেম্বর আততায়ীর গুলিতে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই একদল উগ্রপন্থী (Extremist) গোষ্ঠী ও কট্টর ভারত-বিরোধীরা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, শ্যুটার ফয়জল করিম ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। যদিও ঢাকা পুলিশ অন্তত দুবার স্পষ্ট করেছে যে, অভিযুক্তের ভারতে প্রবেশের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার দলের সাথে শ্যুটারকে জড়িয়ে ভারতকে দুর্নাম করার এই চেষ্টা আসলে একটি গভীর পরিকল্পনার অংশ।
নেপথ্যে কি তবে জামাত-শিবির? ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক (Geo-political Expert) নাহিদ হেলাল এক বিস্ফোরক দাবিতে জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে আসল লাভবান হচ্ছে জামাত ও তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলো। তাঁর মতে, হাদির মৃত্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, মিডিয়া আউটলেট ভাঙচুর এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।
নাহিদ হেলাল আরও বিশ্লেষণ করেছেন যে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি-র হেভিওয়েট নেতা মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে হাদি ছিলেন একজন নির্দল (Independent) প্রার্থী। শক্তির বিচারে মির্জা আব্বাস অনেক এগিয়ে থাকলেও জামাত-শিবিরের নজর ছিল এই আসনটির ওপর। হাদিকে সরিয়ে দিলে আদতে জামাতই সেখানে শক্তিশালী হতে পারে। তাঁর দাবি, এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি থেকে চূড়ান্ত লাভ তুলছে এনসিপি (NCP) ও জামাত শিবির, যারা ইউনূস সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
বিএনপি নেত্রীর অভিযোগ: শুধু বিশ্লেষকরাই নন, বিএনপি নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিও জামাত-ই-ইসলামিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হাদিকে গুলি করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গত ২ বছরে অন্তত দুবার জামিন (Bail) পেতে সহায়তা করেছেন জামাত নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহম্মদ শিশির মনির। মনির এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তিনি সাফ জানান, এই ধরণের অন্যায়ের জন্য তাঁরা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেননি।
সব মিলিয়ে ওসমান হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতার (Unrest) জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
