আন্তর্জাতিক
হাদি হত্যাকাণ্ডে ইউনূস সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, না মানলে ইস্তফার দাবি
হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গতি না আসায় ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি পূরণ না হলে ইস্তফার হুঁশিয়ারি উপদেষ্টাদের।
ঢাকা: একের পর এক দিন পেরোলেও ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের (Hadi murder case) জট খুলতে পারেনি ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার (Interim Government)। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহে দ্রুত বদল আসছে। দেশের অন্দরে আগের তুলনায় আরও জোরালো হয়েছে ভারতবিরোধী (Anti-India) সুর। ক্রমশ অচেনা হয়ে উঠছে পদ্মাপাড়ের (Padma river belt) রাজনৈতিক পরিবেশ এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
শনিবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্য নেতা ওসমান হাদির শেষকৃত্যের (Janaza) পরেই সরকারের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। সরাসরি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম (Ultimatum) ঘোষণা করা হয়। শেষকৃত্যে উপস্থিত ইনকিলাব মঞ্চের সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “হাদি হত্যার ঘটনায় সরকার এখনও পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট (Report) জনসমক্ষে আনতে হবে।” তাঁর সাফ দাবি, এই কাজ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীকে নিজ নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। এই শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন নিহত হাদির ভাই আবু বকর সিদ্দিক। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “রাজধানীর (Capital city) বুকে প্রকাশ্য দিবালোকে হাদিকে গুলি করে খুন করা হল, অথচ অভিযুক্তরা অনায়াসে পালিয়ে গেল – এটা কীভাবে সম্ভব?”
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাজপথে গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রনেতা ওসমান হাদি। মাথায় গুলি লাগায় তাঁর অবস্থা দ্রুত সঙ্কটজনক হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ (Political tension) বাড়তে শুরু করে। হাদি হত্যার দায় নিয়ে অভিযোগের আঙুল উঠেছে আওয়ামী লিগের (Awami League) দিকে। মূল অভিযুক্ত ফয়জল বর্তমানে দেশছাড়া (Absconding) বলে জানা গিয়েছে।
চিকিৎসার জন্য হাদিকে সিঙ্গাপুরে (Singapore) স্থানান্তর করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। টানা ছ’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় তাঁর। সেই থেকেই বাংলাদেশ জুড়ে অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
