দুর্ঘটনা
টাকার লোভে অমানবিকতা, দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতে না পেরে স্ত্রীকে কোপ স্বামীর
দেহ ব্যবসায় নামতে অস্বীকার করায় স্বামীর ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর জখম গৃহবধূ। মুর্শিদাবাদে চাঞ্চল্য, অভিযুক্ত পলাতক।
দেহ ব্যবসায় (Flesh Trade) নামতে অস্বীকার করায় স্ত্রীর উপর ধারালো অস্ত্রের (Sharp Weapon) ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সামশেরগঞ্জ ব্লকের ধুলিয়ান পৌরসভা (Dhulian Municipality) এলাকার পাহাড়ঘাটি গ্রামে। গুরুতর জখম অবস্থায় গৃহবধূকে ভর্তি করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Murshidabad Medical College Hospital)। অভিযুক্ত স্বামী ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ (Police)।
আহত গৃহবধূর নাম শ্রীমতি সিংহ (Sreemati Singh)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪–১৫ বছর আগে ধুলিয়ানের বাসিন্দা অশিক মণ্ডলের (Ashik Mondal) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দম্পতির ১৩ বছরের এক কিশোরী কন্যাও রয়েছে।
অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে অশিক বাড়িতে এসে স্ত্রীর উপর দেহ ব্যবসায় নামার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। স্বামীর সেই অমানবিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রথমে মারধর করা হয় শ্রীমতিকে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন অভিযুক্ত স্বামী ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গৃহবধূ।
চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তাঁদের ১৩ বছরের মেয়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও জড়ো হন। তড়িঘড়ি শ্রীমতিকে উদ্ধার করে অনুপনগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (Anupnagar Health Centre) ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
আহত গৃহবধূর মায়ের অভিযোগ আরও চাঞ্চল্যকর। তিনি জানান, “আমার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে টাকার জন্য দেহ ব্যবসায় নামতে চাপ দিচ্ছিল জামাই। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতেই পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।”
হামলার পর স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও অভিযুক্ত স্বামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
