দুর্ঘটনা
সহমরণ! ১০ দিন স্বামীর দেহ আগলে থেকেও বাঁচলেন না স্ত্রী, ইন্দোরে উদ্ধার জোড়া দেহ
ইন্দোরে বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার দম্পতির দেহ। স্বামীর মৃত্যুর পর টানা ১০ দিন তাঁর দেহ আগলে ছিলেন স্ত্রী, শেষে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁরও।
মর্মান্তিক সহমরণ (Companion Death)-এর ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে (Indore Incident)। টানা ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ঘরের ভিতরে মৃত স্বামীর দেহ আগলে ছিলেন স্ত্রী। শেষ পর্যন্ত সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁরও। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইন্দোরের স্যাটেলাইট জংশন কলোনি থেকে ওই দম্পতির পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম কানহাইয়া লাল বার্নওয়াল (৪৭) ও স্মৃতি বার্নওয়াল (৪২)। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, গত দু’দিন ধরে দম্পতির ঘরের সামনে থেকে তীব্র দুর্গন্ধ (Foul Smell) বেরোচ্ছিল। বারবার দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আধিকারিকরা। দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য। বিছানার উপর পড়ে ছিল কানহাইয়ার পচাগলা দেহ। অন্যদিকে, বাথরুমের ভিতরে উদ্ধার হয় স্মৃতির দেহ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ১০ থেকে ১৫ দিন আগে কানহাইয়ার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় ধরে স্বামীর দেহের পাশেই ছিলেন স্ত্রী স্মৃতি। প্রায় চার দিন আগে তাঁরও মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্মৃতির মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। একইভাবে, কানহাইয়ার মৃত্যুর কারণও তদন্তাধীন।
ঘর থেকে কোনও হাতাহাতি (Struggle) বা চুরি-ডাকাতির (Theft/Robbery) চিহ্ন মেলেনি। গোটা ঘটনাটি রহস্যজনক বলেই মনে করছে পুলিশ। ইন্দোর পুলিশের এক আধিকারিক তারেশ কুমার সোনি বলেন,
“কানহাইয়ার দেহ বিছানায় পাওয়া গিয়েছে। স্মৃতির দেহ ছিল বাথরুমে। ঘরে কোনও জোরজবরদস্তির চিহ্ন নেই। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।”
দু’টি দেহই ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে এই করুণ সহমরণের নেপথ্যের আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
