ভাইরাল
পুতিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অপ্রত্যাশিত দৃশ্য, প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চমকে দিলেন সাংবাদিক
পুতিনের বর্ষশেষের সাংবাদিক সম্মেলনে যুদ্ধ ও অর্থনীতির প্রশ্নের মাঝেই প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চমকে দিলেন তরুণ সাংবাদিক কিরিল বাজানভ।
প্রেম কি যুদ্ধের ভয়াবহতাকেও হার মানাতে পারে? রাশিয়ায় ঘটে যাওয়া এক ঘটনাই যেন সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিল। যুদ্ধের (War) চাপ, অর্থনৈতিক (Economic) অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের (Cost of Living) মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) বর্ষশেষের ম্যারাথন সাংবাদিক সম্মেলনে (Press Conference) দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তরের মাঝেই আচমকা সম্মেলনের গতিপথ বদলে দেন ২৩ বছর বয়সি তরুণ সাংবাদিক কিরিল বাজানভ (Kiril Bazhanov)। লাইভ টেলিভিশনে (Live Television) পুতিনের সামনেই তিনি হাতে তুলে ধরেন একটি প্ল্যাকার্ড (Placard)। সেখানে বড় করে লেখা ছিল— “আমি বিয়ে করতে চাই”।
এরপর সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নিজের প্রেমিকার উদ্দেশে তিনি বলেন,
“আমি জানি, আমার প্রেমিকা এই অনুষ্ঠান দেখছে। ওলগা (Olga), তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?”
এই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে হলভর্তি সাংবাদিকরা হাততালিতে (Applause) ফেটে পড়েন। হাসিতে মুখ ঢেকে ফেলেন উপস্থিত সকলেই। এই নির্ভেজাল আনন্দে যোগ দেন খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও।
তবে আবেগের মুহূর্তে নিজের পেশাগত দায়িত্ব ভুলে যাননি কিরিল। প্রস্তাব দেওয়ার পরেই তিনি নিজের নির্ধারিত প্রশ্নে ফিরে আসেন এবং পুতিনকে দেশের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ ও উচ্চ মর্টগেজ (Mortgage) পরিশোধের চাপ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জানান, তিনি এবং তাঁর সঙ্গী গত আট বছর ধরে সম্পর্কে রয়েছেন, কিন্তু বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে একসঙ্গে পরিবার শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর আচমকা অন্য প্রসঙ্গ থামিয়ে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক (Anchor) জানান এক বড় আপডেট। TASS (রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা) সূত্রে তিনি ঘোষণা করেন—
“আমরা একটি ব্রেকিং নিউজ পাচ্ছি। কিরিল বাজানভের প্রেমিকা তাঁর বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন।”
এরপর কিরিলের দিকে তাকিয়ে সঞ্চালক নিশ্চিত করেন—
“ওলগা তোমাকে বিয়ে করবে।”
ফের একবার গোটা হলজুড়ে হাততালি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। হাসিমুখে এই মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন পুতিনও।
যদিও কিরিলের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তবে মজার ছলেই পুতিন বলেন,
“কিরিল নতুন পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করছিল। একজন পুরুষের উপার্জনক্ষম হওয়া অবশ্যই জরুরি। এখন আমরা টুপি ঘুরিয়ে অন্তত বিয়ের জন্য কিছু অর্থ সংগ্রহ করতে পারি।”
যুদ্ধের আবহে এই ছোট্ট প্রেমের মুহূর্তই যেন রাশিয়ার কঠিন বাস্তবতার মাঝেও মানবিকতার এক ঝলক তুলে ধরল।
