লাইফস্টাইল
দেবতার পুজোয় কোন চন্দন ব্যবহার করবেন, শাস্ত্র কি বলছে
শাস্ত্র অনুযায়ী, সব দেবতার পুজোয় সব চন্দন ব্যবহার করা যায় না। সাদা চন্দন শান্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি করে, আর রক্তচন্দন শক্তি ও সাহসের প্রতীক।
সনাতন ধর্মে চন্দনকে (Sandalwood) পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। আয়ুর্বেদ থেকে জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) পর্যন্ত চন্দনের (Chandan) গুণগান অনন্ত। তবে শাস্ত্র মতে, সব দেবতার পুজোয় সব ধরনের চন্দন ব্যবহার করা যায় না। লাল চন্দন (Red Sandalwood) ও সাদা চন্দন (White Sandalwood) – উভয়ের আধ্যাত্মিক গুণ ও প্রভাব আলাদা। ভুল চন্দন ব্যবহার করলে পুজোর পূর্ণতা (Puja completeness) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন শাস্ত্রজ্ঞরা।
শ্বেতচন্দন বা সাদা চন্দন
শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত সাদা চন্দন মনকে শান্ত রাখে এবং একাগ্রতা (Concentration) বাড়ায়।
-
মহাদেব ও শ্রীবিষ্ণু: শিবলিঙ্গে শ্বেতচন্দনের তিলক দেওয়া অত্যন্ত শুভ। ভগবান বিষ্ণু ও শ্রীকৃষ্ণের পুজোয় সাদা চন্দন ব্যবহার করলে সংসারে সুখ ও শান্তি বজায় থাকে।
-
গ্রহ শান্তি: যদি চন্দ্র বা শুক্র গ্রহ অশুভ প্রভাব দেখায়, সাদা চন্দনের তিলক পরার পরামর্শ দেন জ্যোতিষীরা।
রক্তচন্দন বা লাল চন্দন
শক্তি ও তেজের প্রতীক হিসেবে লাল চন্দন ব্যবহার করা হয়। বিশেষত মঙ্গল গ্রহের সঙ্গে এর সংযোগ রয়েছে।
-
দেবী শক্তি: মা দুর্গা, মা কালী বা যে কোনো দেবী শক্তির পুজোয় লাল চন্দন অপরিহার্য। এটি ভক্তের সাহস ও আত্মবিশ্বাস (Confidence) বৃদ্ধি করে।
-
হনুমান ও গণেশ: বজরংবলী ও গণপতির পুজোয় রক্তচন্দন ব্যবহার করলে জীবনের বাধা ও বিপত্তি দূর হয়।
তিলকের মাহাত্ম্য
অনেকে কপালে চন্দনের তিলক (Forehead tilak) করেন। শাস্ত্র বলছে, সাদা চন্দনের তিলক মানসিক শান্তি (Mental peace) ও ধৈর্য (Patience) বৃদ্ধি করে। রক্তচন্দনের তিলক শারীরিক শক্তি ও নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সাহায্য করে।
জ্যোতিষদের পরামর্শ অনুযায়ী, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও মানসিক শান্তি চাইলে সাদা চন্দন বেছে নিন। শত্রুবিজয়, কঠোর পরিশ্রম বা শক্তি অর্জন আপনার লক্ষ্য হলে লাল চন্দন বেশি ফলদায়ক। যেই প্রকার চন্দন ব্যবহার করুন, তা যেন খাঁটি হয়। ভেজাল চন্দন বা রাসায়নিক মিশ্রিত সুগন্ধি শাস্ত্রীয় কাজে ফলপ্রসূ হয় না।
