লাইফস্টাইল
ঘুমের মধ্যে পায়ের শিরায় টান? জানুন কারণ ও সহজ সমাধান
রাতে ঘুমের মধ্যে আচমকা পায়ের শিরায় টান ধরছে? জানুন নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পসের কারণ, তাত্ক্ষণিক আরামের উপায় ও ভবিষ্যতে সমস্যা এড়ানোর সহজ টোটকা।
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকার মাঝেই আচমকা পায়ের ডিমে বা কাফ মাসলে (calf muscle) তীব্র যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যায়—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই পরিচিত। পা সোজা করা বা ভাঁজ করা কোনওটাই সম্ভব হয় না। মনে হয় শিরা বা রগ (vein) এক জায়গায় শক্ত হয়ে দলা পাকিয়ে গিয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পস (Nocturnal Leg Cramps)। আট থেকে আশি—প্রায় সব বয়সের মানুষই কোনও না কোনও সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন।
চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভয় পাওয়ার কারণ নেই। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন (lifestyle change) এবং কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললেই এই যন্ত্রণা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কেন হয় এই সমস্যা?
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন (dehydration) এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি শরীরে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম (potassium) ও ম্যাগনেসিয়াম (magnesium)-এর ঘাটতি হলে পেশিতে টান ধরার প্রবণতা বাড়ে।
যাঁরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম (exercise) করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। গর্ভাবস্থা (pregnancy) এবং বয়সজনিত কারণেও রাতে পায়ে টান ধরা স্বাভাবিক ঘটনা।
ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরলে তৎক্ষণাৎ কী করবেন?
আতঙ্কিত না হয়ে নিচের উপায়গুলি মেনে চলুন—
স্ট্রেচিং (stretching):
যে পায়ে টান ধরেছে, সেই পা সোজা করে পায়ের পাতা নিজের দিকে টানুন। হাত দিয়ে আঙুল ধরে শরীরের দিকে টানলে কাফ মাসল প্রসারিত হয় এবং ব্যথা কমে।
হাঁটাচলা:
বিছানা থেকে নেমে সাবধানে কিছুক্ষণ ঘরের মধ্যে হাঁটুন। পায়ের ওপর ভর দিলে পেশি ধীরে ধীরে শিথিল (relax) হতে শুরু করে।
গরম সেঁক:
আক্রান্ত জায়গায় হট ওয়াটার ব্যাগ (hot water bag) দিয়ে সেঁক দিন। উষ্ণতা পেশির সংকোচন কমাতে সাহায্য করে। অনেক সময় গরম জলে স্নান (warm bath) করলেও আরাম মেলে।
ম্যাসাজ:
অল্প তেল দিয়ে খুব আলতো হাতে টান ধরা জায়গা মালিশ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন (blood circulation) বাড়ে এবং পেশি নরম হয়।
বারবার টান ধরা রুখতে কী করবেন?
শুধু ব্যথার সময় নয়, ভবিষ্যতে সমস্যা এড়াতে এই অভ্যাসগুলো জরুরি—
-
পর্যাপ্ত জলপান:
সারাদিনে অন্তত ৩–৪ লিটার জল পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড (hydrated) থাকলে পেশির নমনীয়তা বজায় থাকে। -
সঠিক খাদ্যাভ্যাস:
পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। কলা, ডাবের জল, পালং শাক ও বাদাম নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন। -
ঘুমানোর ভঙ্গি:
উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন। চিত হয়ে বা পাশ ফিরে ঘুমানো পেশির জন্য বেশি উপযোগী। -
হালকা ব্যায়াম:
ঘুমানোর আগে হালকা স্ট্রেচিং বা পায়ের এক্সারসাইজ করলে রাতে টান ধরার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণত ঘরোয়া উপায়েই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে যদি ঘন ঘন টান ধরে, পা ফুলে যায় (swelling) কিংবা ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় এটি ডায়াবেটিস (diabetes) বা স্নায়ুর সমস্যার (nerve disorder) লক্ষণও হতে পারে।
