লাইফস্টাইল
প্রিয়জনের গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজের অবহেলা নয় তো? জেনে নিন সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার উপায়
সম্পর্কের যত্ন নেওয়া ভালো, কিন্তু নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে নয়। অহেতুক ক্লান্তি, উদ্বেগ এবং নিজেকে অবহেলা করা কি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে? সম্পর্কের এই নেতিবাচক দিকগুলি নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।
ভালোবাসার টানে বা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আমরা অনেক সময় নিজেদের উজাড় করে দিই। কিন্তু কবি কামিনী রায়ের সেই বিখ্যাত পঙক্তি ‘প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’ কি সবসময় আপনার ব্যক্তিগত জীবনে সুখ বয়ে আনে? বাস্তুবাদিরা বলছেন, কোনো সম্পর্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আবেগ বা শ্রম বিনিয়োগ করা বা ‘ওভার ইনভেস্ট’ (Over-invest) করা অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। নিজের ভালো লাগাকে বিসর্জন দিয়ে অন্যকে খুশি করার এই প্রবণতা আপনাকে মানসিকভাবে নিঃস্ব করে দিতে পারে।
প্রেমের সম্পর্ক হোক বা পারিবারিক— মা-বাবা, ভাই-বোন কিংবা প্রিয় বন্ধু— অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া যখন একতরফা হয়ে দাঁড়ায়, তখন আপনি ধীরে ধীরে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেন।
জেনে নিন কোন লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবেন আপনি সম্পর্কের জালে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন:
১. ইমোশনাল ‘অটো-পাইলট’ মোড
বাইরে থেকে আপনাকে স্বাভাবিক মনে হলেও, ভেতর থেকে আপনি নিজের সঙ্গেই যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন। আপনি কেবল সেটুকুই করেন যা অন্যের জন্য প্রয়োজন। একেই বলা হয় ‘অটো-পাইলট’ (Auto-pilot) মোড। আপনি হাসছেন, কথা বলছেন, কিন্তু নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে আপনি উদাসীন।
২. নিজেকে ক্রমাগত অবহেলা (Self-neglect)
রেস্তোরাঁয় খাবারের অর্ডার দেওয়া থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের বড় কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত (Financial decision)— সব ক্ষেত্রেই অন্যের পছন্দকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। নিজের ভালো লাগা বা মন্দ লাগাগুলো যখন একদম তালিকার শেষে চলে যায়, তখন বুঝতে হবে আপনি নিজেকে গুরুত্ব দিতে ভুলে গেছেন। এটি আপনাকে মানসিকভাবে একা করে দেয়।
৩. সারাক্ষণ উদ্বেগ ও ক্লান্তি
অন্যের প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে আপনি সবসময় দুশ্চিন্তায় (Anxiety) থাকেন। অশান্তি এড়াতে নিজের তীব্র অপছন্দের কাজও হাসিমুখে মেনে নেন। অন্যের মন জুগিয়ে চলার এই নিরন্তর চেষ্টা আপনাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। এই ক্লান্তি শারীরিক নয়, বরং মানসিক অবসাদ (Mental exhaustion)। ফলে সামান্য কারণে মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা মাথা ভারী হয়ে থাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
৪. অলীক আশায় দিন কাটানো
বর্তমান পরিস্থিতির তিক্ততাকে স্বীকার না করে ‘হয়তো একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে’— এই মিথ্যে আশায় দিন কাটানো এক ধরণের ফাঁদ। মস্তিষ্ক বারবার সতর্ক করলেও আবেগ (Emotions) আপনাকে সেই বিষাক্ত অভ্যাস থেকে বের হতে দেয় না।
মনে রাখবেন, নিজে মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে অন্যকে ভালো রাখা অসম্ভব। সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। যদি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, তবে দ্বিধা না করে পেশাদার কাউন্সিলর (Counselor) বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজেকে ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি সুস্থ সম্পর্কের প্রথম ধাপ।
