বাংলার খবর
খসড়া ভোটার তালিকায় ত্রুটি, জীবিত ভোটার ‘মৃত’ দেখানো নিয়ে শোকজ BLO দের
রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকায় বহু ভোটারকে মৃত দেখানোর অভিযোগে শোকজ পাঠানো হয়েছে বিএলও ও এআরওদের। কমিশন ৮৫-ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়িতেই শুনানি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কলকাতা: সোমবার পর্যন্ত জীবিত ছিলেন বহু ভোটার, কিন্তু মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Voter List) প্রকাশের পরেই তাদেরকে মৃত (Deceased) হিসেবে দেখানো শুরু হলো। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ঘটনা ঘটছে। প্রশ্ন উঠছে, দায় কার? ভোটারদের মতে, দায় নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই (Election Commission)। তবে কমিশন এসব ভুলের দায় (Responsibility) বুথ লেভেল অফিসারদের (Booth Level Officers – BLOs) উপর চাপাচ্ছে।
সূত্রের খবর, সমস্যাজনক এলাকা থেকে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০ জন বিএলওকে শোকজ (Show Cause Notice) করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এআরওদেরও (ARO) শোকজ পাঠানো হয়েছে।
কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার ৫৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা অশ্বিনী অধিকারী ও শিবানী অধিকারী অভিযোগ করেছেন, দু’জনেই ইনিউমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) পূরণ করেছেন, কিন্তু খসড়া তালিকায় তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে। কোচবিহারের দেওয়ানহাটের আলিমান বেওয়ারও একই অবস্থা। এছাড়া মাথাভাঙা (১)-এর শোভা বর্মন এবং মাথাভাঙা (২)-এর কাজিমা খাতুন ও রাহুল হোসেনকেও মৃত দেখানো হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়াতেও মসিরদ্দিন নামে ষাটোর্ধ্ব ভোটার মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গেও সমস্যা চলছে। পূর্ব বর্ধমানের কালনার আমলাপুকুরের পূর্ণ সাহাকে মৃত তালিকায় রাখা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকপুরের পিন্টু দাসও জীবিত হলেও তালিকায় তার নাম নেই। পেশায় ভ্যান চালক পিন্টু বলেন,
“আমি আর বাবা দু’জনেই ফর্ম পূরণ করেছি। বাবার নাম তালিকায় আছে, আর আমি নাকি মৃত!”
পশ্চিমবঙ্গ থেকে ঝাড়খণ্ডে স্থানান্তরিত চুচুঁড়ার দেবময় ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রীও খসড়া তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে।
শুধু মৃত দেখানো নয়, আরও অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাঁকুড়া শহরের ৭০ নম্বর বুথের রাজু দের নামের পাশে এক মহিলার ছবি ছাপা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের খুলনার কাসিমুদ্দিন গাজির মেয়ের নাম মহিষাদলের খসড়া ভোটার তালিকায় মনা দাস অধিকারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
কমিশনের দাবি, এই বিপত্তির মূল কারণ বিএলওদের ভুল। এর ফলে দার্জিলিং-শিলিগুড়ির একজন, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির এক, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার তিনজন, এবং হুগলির ডানকুনি ও চণ্ডীতলার একজন বিএলও শোকজ হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এআরওদের কাছ থেকেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
কমিশন জানাচ্ছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ৬৮,৫৫৬টি, সিপিএমের ৪২,৭৫৯টি, বিজেপির ৫৫,১৬১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসইউসিআইয়ের তরফে তরুণ মণ্ডলের নেতৃত্বে ত্রুটিহীন তালিকা প্রকাশের দাবিতে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে সিইও অফিসে।
৮৫-ঊর্ধ্ব ভোটারের জন্য বাড়িতেই শুনানি
করোনা পর্বে ৮০-ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছিল নির্বাচন কমিশন। এবার ৮৫-ঊর্ধ্ব ভোটারদের জন্য বাড়িতেই শুনানি (Hearing) নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট ভোটাররা কেন্দ্র যেতে হবে না; কমিশনের প্রতিনিধিরা সরাসরি বাড়িতে গিয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন। মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে অটো জেনারেটেড চিঠি পাঠানো শুরু হবে।
