বাংলার খবর
বিনিয়োগের প্রলোভনে ২২.৫৪ লক্ষ টাকা হারালেন, শিলিগুড়ির প্রবীণ
শিলিগুড়ির প্রবীণ নাগরিক ধাপে ধাপে ২২.৫৪ লক্ষ টাকা হারালেন প্রতারকের ফাঁদে। অনলাইনে ও ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রতারকরা তাঁকে ডলার লগ্নিতে ফাঁদে ফেলেছিল।
শিলিগুড়ি: ছেলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার জন্য লগ্নি (Investment) করেছিলেন শিলিগুড়ির একজন প্রবীণ নাগরিক। কিন্তু সেটিই হয়ে দাঁড়াল তাঁর দুর্ভাগ্যের কারণ। প্রতারকদের (Fraudsters) ফাঁদে পড়ে ইতিমধ্যেই ২২ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা হারিয়েছেন তিনি। অভিযোগ করা হয়েছে সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) থানায়।
প্রবীণ ব্যক্তি রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অ্যাকাউন্টস অফিসার (Retired Accounts Officer), ছেলে পেশায় আইনজীবী। বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে তিনি একদল প্রতারকের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) যোগাযোগ করেন। এই প্রতারকরা ধাপে ধাপে তার থেকে প্রচুর টাকা নিয়েছে।
পুলিশ জানাচ্ছে, রেয়ানশিকা শর্মা নামে পরিচিত এক মহিলা প্রথমে প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর (Finance Minister) একটি ভিডিও দেখিয়ে বিশেষ প্রকল্পে লগ্নির প্রস্তাব দেয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো হতে থাকে। রেয়ানশিকার পাশাপাশি প্রদীপকুমার প্যাটেল, বিজয় কুমার, সুরেশ, আরতি ও গোবিন্দ নামধারী কয়েকজনও প্রবীণের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রতারকরা আশ্বাস দেয়, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে লগ্নি করলে বিপুল লাভ হবে। এক সময় প্রবীণকে নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Bank Account) খুলতে বলা হয়। কৌশলে অ্যাকাউন্টের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড জেনে নেয় তারা, তবে আশ্বাস দেয় অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ প্রবীণের হাতেই থাকবে।
প্রথমে ওই অ্যাকাউন্টে ১৫ হাজার টাকা জমা রাখতে বলা হয়। পরে ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করলে প্রবীণ ভরসা পেয়ে আরও বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে থাকেন। প্রতারকরা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (Bank Accounts) টাকা পাঠাতে বলে, যার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ২২.৫৪ লক্ষ টাকা চলে যায়। অভিযুক্তদের মধ্যে কাশীনাথ বাপাত্রে, সাহিল পোপট পরদেশি, কমল শর্মা, সইদ ইউসুফউদ্দিন, তুহিন গিরি ও সূর্য কুমারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে ইউপিআই (UPI), ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার (Bank Transfer) এবং চেকের মাধ্যমে এই টাকা নেওয়া হয়েছিল। প্রবীণকে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে লগ্নি করা টাকা আমেরিকান ডলারে (US Dollar) রূপান্তরিত হবে বলে দেখানো হয়েছিল। শুরুতে কিছু ডলার জমা দেখালেও, টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে আরতি ও গোবিন্দ নামে নতুন প্রতারকরা আসেন। তারা নিজেদের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (Reserve Bank of India – RBI) মার্চেন্ট হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর আর টাকা তোলা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের আসল নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহের কাজ চলছে এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
