ব্যবসা
দূষণমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে বিকল্প জ্বালানিতেই ভরসা: পরিবহন মন্ত্রীর ভবিষ্যৎবাণী
২০২৬ সালের ‘বাসওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া কনক্লেভ’-এ নীতীন গড়করি স্পষ্ট করলেন যে, ভারতের পরিবহন ক্ষেত্রকে বাঁচতে হলে পেট্রল-ডিজ়েল ছেড়ে হাইড্রোজেন ও ইথানলের মতো দেশীয় বিকল্পে ফিরতে হবে।
বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সংকটের (Fuel Crisis) প্রেক্ষাপটে ভারতের যাতায়াত ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নীতীন গড়করি। ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় যখন বিশ্ববাজারে তেলের হাহাকার তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, পেট্রল এবং ডিজ়েল চালিত যানবাহনের দিন ফুরিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার দিল্লিতে আয়োজিত ‘বাসওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া কনক্লেভ-২০২৬’ (Busworld India Conclave 2026) অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলোকে পরিবেশবান্ধব বিকল্পের দিকে দ্রুত সরে আসার কড়া বার্তা দেন।
কেন বাতিলের খাতায় পেট্রল-ডিজ়েল?
নীতীন গড়করির মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা ভারতের অর্থনীতি এবং পরিবেশ— উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, পেট্রল ও ডিজ়েল আমদানিতে (Import) ভারতকে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়, তেমনই এটি আমদানির ক্ষেত্রে নানা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এর পাশাপাশি পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ এবং ক্রমবর্ধমান দূষণ (Pollution) জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই জোড়া সংকট থেকে মুক্তি পেতে তিনি অটোমোবাইল শিল্পকে (Automobile Industry) গুণমানের ওপর ভিত্তি করে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভবিষ্যতের জ্বালানি ও পরিকাঠামো
পরিবহন মন্ত্রী কেবল সতর্কবার্তাই দেননি, বরং বিকল্প জ্বালানির একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছেন। তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন:
-
পরিবেশবান্ধব বিকল্প: বায়োফুয়েল (Biofuels), সিএনজি (CNG), এলএনজি (LNG) এবং ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেন (Electric Powertrains)-এর ব্যবহার বাড়ানো।
-
ইথানলের সম্ভাবনা: ভারত যেহেতু বিভিন্ন কাঁচামাল থেকে ইথানল (Ethanol) উৎপাদনে সক্ষম, তাই দেশীয় এই সমাধানকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি।
-
হাইড্রোজেন ও লিথিয়াম: হাইড্রোজেন চালিত গাড়ি এবং লিথিয়াম (Lithium) ব্যাটারি প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহারের মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থাকে সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত করার কথা বলেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতীয় বাস নির্মাণ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। খরচ কমানোর নেশায় যেন নিরাপত্তার (Safety) সঙ্গে কোনও আপস করা না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ভারত যখন গণপরিবহন (Public Transport) ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করছে, তখন দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূষণমুক্ত যানই হবে আগামীর মূল স্তম্ভ।
