দেশের খবর
মুম্বইয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর নৃশংস হামলা: ধর্মপরিচয় জেনেই ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল যুবক
সোমবার ভোরে মুম্বইয়ের নয়ানগরে দুই নিরাপত্তারক্ষীকে ছুরি দিয়ে কোপালো এক যুবক। অভিযুক্তের ডায়েরিতে মিলল আইসিস ও জিহাদের উল্লেখ। জখমদের মধ্যে রয়েছেন একজন বাঙালি নিরাপত্তারক্ষী।
মুম্বইয়ের মীরা রোডের নয়ানগর এলাকায় সোমবার ভোরে এক নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেল। একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের বাইরে পাহারায় ছিলেন দুই নিরাপত্তারক্ষী (Security Guard)— রাজকুমার মিশ্র এবং বাঙালি যুবক সুব্রত সেন। ঘড়িতে তখন ভোর ৪টে। নির্জন রাস্তায় আচমকাই ঠিকানা খোঁজার নাম করে তাঁদের সামনে এসে দাঁড়ায় ৩১ বছর বয়সি এক যুবক। কিছুক্ষণ কথা বলার পর সে হঠাৎই রক্ষীদের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এমনকি জানতে চায় তারা ‘কলমা’ পড়তে পারে কি না।
বিপদ বুঝে দুই নিরাপত্তারক্ষী তাকে চলে যেতে বললেও ওই যুবক ছিল নাছোড়বান্দা। মুহূর্তের মধ্যে পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে সে দুই রক্ষীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এলোপাথাড়ি কোপাতে (Stabbing) থাকে তাঁদের। এই অতর্কিত হামলায় (Attack) দুজনেই গুরুতর জখম হন। ঘটনার দেড় ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত জ়াইব জ়ুবের আনসারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সন্ত্রাসযোগ ও ‘লোন উল্ফ’ হামলার আশঙ্কা
এই ঘটনাটি কেবল সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা সন্ত্রাসবাদী যোগসূত্র (Terror Link) রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন শাখা (ATS)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ একে ‘লোন উল্ফ অ্যাটাক’ (Lone Wolf Attack) বা একক ব্যক্তির পরিকল্পিত হামলা বলে মনে করছে। ধৃত আনসারির ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করেছে, যেখানে ‘আইসিস’ (ISIS), ‘জিহাদ’ এবং ‘লোন উল্ফ’-এর মতো শব্দবন্ধের উল্লেখ ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, আনসারি বিজ্ঞানে স্নাতক (Science Graduate) এবং দীর্ঘ ১৯ বছর আমেরিকায় ছিল। ২০১৯ সালে ভারতে ফিরে আসার পর সে একাকী জীবন যাপন করত এবং অনলাইনে রসায়নের কোচিং (Chemistry Coaching) দিত। গোয়েন্দাদের ধারণা, ইন্টারনেটে সন্ত্রাসবাদী উপাদান দেখে সে নিজেই মৌলবাদের পথে বা ‘সেল্ফ র্যাডিকালাইজ়ড’ (Self-Radicalized) হয়ে উঠেছিল। তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত (Seized) করা হয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও তদন্তের অভিমুখ
ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক রূপ নিতে পারে এই আশঙ্কায় প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ জানান যে, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত জিহাদের নামে হিন্দুদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছিল। এনআইএ (NIA) এবং এটিএস যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই মগজ ধোলাইয়ের (Brainwashing) পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের (Terror Network) হাত রয়েছে কি না।
আহত বাঙালি রক্ষী সুব্রত সেন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর বুথেই পড়েছিলেন, যাঁকে প্রতিবেশী নায়াব শেখ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে দুই রক্ষীই চিকিৎসাধীন। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং ভাইরাল হওয়া মোবাইল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় কোনো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারেনি।
