আন্তর্জাতিক
ভোট ভেস্তে দেওয়ার ছক? হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জুড়ে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলাগুলি পূর্বপরিকল্পিত।
ঢাকা: শোকে মানুষ সাধারণত স্তব্ধ থাকে। প্রিয় নেতা বা নায়কের মৃত্যুশোকে দক্ষিণ ভারতে মানুষ আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা দেখা যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে ঘটেছে উল্টো দৃশ্য। বিতর্কিত যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির (Sharif Osman Hadi) মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের তথাকথিত ‘তৌহিদি জনতা’ ও ‘ছাত্রজনতা’-র একাংশ রাজধানী ঢাকা (Dhaka), চট্টগ্রাম (Chattogram) ও অন্যান্য এলাকায় তাণ্ডব চালায়।
ঢাকায় সংবাদপত্রের অফিসে (Newspaper Offices) আগুন লাগানো হয়। অফিসের ক্যান্টিনে (Canteen) লুটপাটের পর ফ্রিজের আইসক্রিম খেয়ে যায় হামলাকারীরা। এসব ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল সাইটে (Social Site) ভাইরাল হয়েছে। মিলিটারি (Military) উপস্থিতির পরও হামলাকারীরা উদীচী (Udichi)-র অফিসে ঢুকে হারমোনিয়াম আছড়েছে, তবলা ফুটো করেছে, এস্রাজগুলো ভেঙে ছড়িয়ে দিয়েছে। তারপর পুরো ভবন পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে নাচতে নাচতে স্লোগান দেয়—‘নারায়ে তকবির’।
এই ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিজয় দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপট থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীরা সম্পূর্ণ অরাজকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের (Indian Intelligence) মতে, হামলার লক্ষ্য, ধরন ও সময়সূচি নির্দেশ করছে যে, হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জুড়ে অরাজকতা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকায় হামলার সামনের সারিতে ছিলেন—গত বছরের জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP), নিষিদ্ধ ইসলামি জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর (Hizb ut-Tahrir), জামায়াতে ইসলামি (Jamaat-e-Islami) ও তাদের শাখা ইসলামি ছাত্র শিবির। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাড়িতে হামলা ও কূটনৈতিক ভবনে হামলার চেষ্টা-এ যুক্তরা প্রায় সকলেই জামায়াত-শিবির, হেফাজতে ইসলামি (Hefazat-e-Islam) ও অন্যান্য ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের ক্যাডার।
রাজশাহি, খুলনা এবং ময়মনসিংহে হামলা ও খুনের নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াত-শিবির, হেফাজত ও এনসিপি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অরাজকতার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের (Parliamentary Election) পরিস্থিতি বানচাল করা এবং দায়ভার ভারতে চাপানো।
হাদির মৃত্যুর এক সপ্তাহ ধরে হাসনাত আবদুল্লা, মাহফুজ আলমের মতো প্রাক্তন ছাত্রনেতারা ভারত-বিরোধী (Anti-India) জিগির তোলায় আগাম তত্ত্ব দেখাচ্ছিলেন। হাদির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে হামলা ও অরাজকতা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেছে। পুলিশের (Bangladesh Police) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ (Military Intelligence) এ বিষয়ে অন্ধকারে থাকার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, হাদির আততায়ীকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো, সরকারি খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা কেন? তিনি সরকার বা প্রশাসনের কর্মকর্তা ছিলেন না, অথচ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হলো।
এনসিপি ও প্রাক্তন ছাত্রনেতারা ‘হাসিনা হটাও’ আন্দোলনের সাথে যুক্ত। সম্প্রতি তাদের জনপ্রিয়তা কমলেও বিএনপির অস্থায়ী চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক সমীকরণকে বিএনপির পক্ষে ঢেলে দিতে পারে।
নির্বাচন (Election) প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংবিধান ও রাষ্ট্রপতিকে চ্যালেঞ্জ করে একটি বিপ্লবী সরকার (Revolutionary Government) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হতে পারে, যা জামায়াতে ইসলামি সমর্থন পেতে পারে। এই সব কার্যক্রম জুলাই আন্দোলনের মতো পূর্বনির্ধারিত (‘Meticulously Designed’) বলে মনে করা হচ্ছে।
অনেকে মনে করছেন, এই ‘মাইনাস টু’ পরিকল্পনার (Minus Two Plan) নেপথ্যে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের হাতও থাকতে পারে।
