ব্যবসা
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তৎপর কেন্দ্র: তেলের জোগান নিশ্চিত করতে রাশিয়ার পথে ভারত
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি সংকটের মুখে ভারত। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দৈনিক ১.৯৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করছে নয়াদিল্লি।
তেলের জোগান নিয়ে পুরোনো ‘বন্ধু’ দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে ভারত
পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী (Oil Importer) দেশ হিসেবে ভারত এই মুহূর্তে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ (Waterway) অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তেলের জোগান নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র এখন পুরোনো ‘বন্ধু’ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিকল্প উৎসের দিকেও নজর দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে সংকট ও বিকল্পের সন্ধান
ভারতের প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় অর্ধেক আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর এই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত বিকল্প উৎস (Alternative Source) থেকে তেল আমদানি না বাড়ালে ভারত তীব্র জ্বালানি সংকটের (Fuel Crisis) মুখে পড়তে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে পেট্রোলের ঘাটতি দেখা দিলেও ভারত এখনও মজুত তেলের (Oil Reserve) কারণে কিছুটা স্বস্তিতে আছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে আফ্রিকা, ইরান এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে কেন্দ্র।
রুশ তেলের ওপর ভরসা ও আমদানিতে রেকর্ড
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) সত্ত্বেও ভারত আবারও রাশিয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) কেনা শুরু করেছে। শিপ-ট্র্যাকিং (Ship-tracking) সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে দৈনিক গড়ে ১.৯৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে ভারতীয় পরিশোধনকারী সংস্থাগুলো। এছাড়া এপ্রিল মাসে ডেলিভারি নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ৬০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের চুক্তি করেছে ভারত। রাশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা থেকেও তেলের আমদানি ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
তথ্য গোপন ও গোপনীয়তা
আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাশিয়া থেকে ঠিক কী পরিমাণ তেল কেনা হয়েছে, তা নিয়ে ‘তথ্যের অধিকার আইন’ বা আরটিআই (RTI) এর অধীনে প্রশ্ন করা হলেও কেন্দ্র কোনো পরিসংখ্যান দিতে রাজি হয়নি। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অধীনস্থ সেল জানিয়েছে, এই তথ্যের প্রকৃতি ‘বাণিজ্যিক ও গোপনীয়’ (Commercial and Confidential), তাই এটি জনসমক্ষে আনা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনও (Central Information Commission) সরকারের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে দর কষাকষি এবং কৌশলগত কারণেই এই গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
