ব্যবসা
রান্নাঘরে যুদ্ধের আঁচ: থমকে গেল নতুন LPG কানেকশন, বিপাকে সাধারণ মানুষ
পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির জেরে ভারতে এলপিজি আমদানি ব্যাহত। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি নতুন রান্নার গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছে। পুরোনো গ্রাহকদের জোগান সামলাতে এখন হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
নতুন এলপিজি সংযোগে স্থগিতাদেশ: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধসংকটে উত্তপ্ত ভারতের রান্নাঘর
ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে এবার বড়সড় টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি আমদানিতে। এর ফলে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো (Oil Marketing Companies বা OMC) আপাতত নতুন এলপিজি (LPG) সংযোগ দেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। গত প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই অঘোষিত স্থগিতাদেশ চলছে বলে বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
ভারতের রান্নার গ্যাসের সংকটের মূলে রয়েছে ভৌগোলিক রাজনৈতিক অস্থিরতা। মূলত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ভারতে রান্নার গ্যাসের আমদানি (Import) প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ এবং এই চাহিদার সিংহভাগই আসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে। আমদানি অনিয়মিত হয়ে পড়ায় নতুন গ্রাহকদের সংযোগ দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সংস্থাগুলো এখন নতুন সংযোগের চেয়ে পুরোনো গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন জোগান (Supply) নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিকল্প হিসেবে পিএনজি-র ওপর জোর
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন বিকল্প পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে। যে সমস্ত শহর বা এলাকায় পর্যাপ্ত পরিকাঠামো (Infrastructure) রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের এলপিজি ছেড়ে দিয়ে নলবাহিত গ্যাস বা পিএনজি (Piped Natural Gas) সংযোগ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৩ কোটি গ্রাহককে এই পিএনজি পরিষেবার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এতে আমদানিকৃত এলপিজির ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভোক্তাদের বাড়ছে ভোগান্তি
এলপিজি সংযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। বহু এলাকায় বুকিং করার পরও সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক (Commercial) ও গৃহস্থালি (Domestic) গ্যাসের দাম পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন কানেকশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের সমস্যাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা নতুন বাড়ি করছেন বা নতুন সংসার শুরু করছেন, তাঁরা রান্নার গ্যাসের বিকল্প খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন।
