ব্যবসা
টাটা ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মেগা বৈঠক: বদলাতে চলেছে এয়ার ইন্ডিয়ার ভাগ্য
২০২৫-এর ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও আন্তর্জাতিক আকাশপথ সমস্যার কারণে বিপুল ক্ষতির মুখে এয়ার ইন্ডিয়া। সংকট কাটাতে এবার সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের হাতে যাচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব।
ভারতের আকাশপথে এক সময়ের রাজপুত্র ‘এয়ার ইন্ডিয়া’ (Air India) বর্তমানে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টাটা গোষ্ঠীর (Tata Group) মালিকানাধীন এই সংস্থাকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে এবার সরাসরি আসরে নামছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স (Singapore Airlines)। যদিও এই সংস্থায় তাদের অংশীদারিত্ব বা শেয়ার (Share) মাত্র ২৫.১ শতাংশ, তবুও এয়ার ইন্ডিয়ার দৈনন্দিন পরিচালনা বা ‘অপারেশনস’ (Operations) এবং কারিগরি দিকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
কেন সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া?
২০২২ সালে টাটা গোষ্ঠী এয়ার ইন্ডিয়া অধিগ্রহণ করার পর থেকেই নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। বর্তমানে এই বিমান সংস্থার সামনে পাহাড়প্রমাণ সমস্যা দাঁড়িয়ে আছে:
-
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: ‘অপারেশন সিঁদুর’–এর প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকার ফ্লাইটে জ্বালানি খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথও ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে বিমানগুলিকে অনেকটা ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
-
ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও ক্ষতিপূরণ: ২০২৫ সালের জুন মাসে আমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী ড্রিমলাইনার (Dreamliner) দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু সংস্থার আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণের (Compensation) বোঝা এখন সংস্থার কাঁধে।
-
রক্ষণাবেক্ষণের অভাব: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে, যা সংস্থার বিশ্বস্ততা নষ্ট করছে।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ভূমিকা ও আগামীর পরিকল্পনা
বিশ্বজুড়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সুনাম রয়েছে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং (Engineering) এবং উন্নত পরিষেবার জন্য। সূত্রের খবর, এয়ার ইন্ডিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের (Executive Officers) এয়ার ইন্ডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছে।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরণের সঙ্গে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সিইও (CEO) গো চুন ফং-এর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রাক্তন সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনের পদত্যাগের পর নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন লগ্নির (Investment) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এই হস্তক্ষেপ এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য একটি নতুন জীবনদান বা লাইফলাইন (Lifeline) হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
