খেলাধুলা
অলিম্পিকের পর এবার নজর এশিয়ান গেমসে: মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতিতে কোমর বাঁধছে ভারত
২০৩০ কমনওয়েলথ এবং ২০৩৬ অলিম্পিকের পর এবার ২০৩৮ এশিয়ান গেমস আয়োজনের দৌড়ে নামল ভারত। ওসিএ-র কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।
ভারতীয় ক্রীড়া জগতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games) আয়োজনের পাশাপাশি ভারত এখন ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি চালাচ্ছে। তবে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (Indian Olympic Association – IOA) কেবল এই দুটি বড় ইভেন্টেই থেমে থাকতে রাজি নয়। তাদের নজরে এখন এশিয়ার সবথেকে বড় ক্রীড়া আসর। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩৮ সালের এশিয়ান গেমস (Asian Games) আয়োজনের জন্য ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ইতিমধ্যেই ২০২৬, ২০৩০ এবং ২০৩৪ সালের এশিয়ান গেমসের আয়োজক দেশ হিসেবে যথাক্রমে জাপান, কাতার এবং সৌদি আরবের নাম চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ফলে ২০৩৮ সালের স্লটটি দখল করতে এখন থেকেই তৎপরতা শুরু করেছে ভারত।
লক্ষ্য যখন ২০৩৮: কি বলছেন কর্মকর্তারা?
ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সিইও (CEO) রঘুরাম আইয়ার এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁরা অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া বা ওসিএ-র (OCA) কাছে ভারত সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিড (Bid) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি, তবে চীনের বোর্ডিং মিটিংয়ে ভারতের এই প্রস্তাবটি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
খুব শীঘ্রই ওসিএ-র একটি প্রতিনিধি দল ভারতে আসবে পরিকাঠামো (Infrastructure) খতিয়ে দেখতে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই আমেদাবাদকে অলিম্পিক স্তরের আয়োজনের জন্য তৈরি করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এশিয়ান গেমসের প্রধান ভেন্যু হিসেবেও এই শহরটিকেই বেছে নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, আসন্ন কমনওয়েলথ গেমসের জন্য সাভারকর স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লড়াই
২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমসের পর ভারত আর কোনো বড় মাপের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করেনি। সেই সময়কার দুর্নীতি (Corruption) এবং দুর্বল পরিকাঠামো নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলি ভারতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে কিছুটা ম্লান করেছিল। তাই এবার ভারতের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সেই পুরনো বিতর্ক সরিয়ে রেখে স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার সঙ্গে বিশ্বমানের ইভেন্ট আয়োজন করা।
বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ (Investment) এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরির মাধ্যমে ভারত এখন প্রমাণ করতে চায় যে, তারা অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসের মতো মেগা ইভেন্ট সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০৩০ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় স্পোর্টস হাবে পরিণত হবে।
