আন্তর্জাতিক
যুদ্ধ থামানো থেকে শুল্কনীতি—বিশ্বমঞ্চে নিজের সাফল্যের খতিয়ান ট্রাম্পের
বিশ্বমঞ্চে ফের ট্রাম্পের দাবি—দশ মাসে আটটি যুদ্ধ থামানো, ইরানের পরমাণু হুমকি শেষ ও রেকর্ড বিনিয়োগ টানতে শুল্কনীতির সাফল্য।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের নিজের সাফল্যের তালিকা তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, মাত্র দশ মাসের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আটটি যুদ্ধ বা সংঘাতের অবসান ঘটাতে সক্ষম হয়েছে তাঁর প্রশাসন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য, ইরানের (Iran) পরমাণু হুমকি কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে, কারণ সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ঘাঁটিতে সরাসরি এয়ার স্ট্রাইক (Air Strike) চালিয়েছে আমেরিকা (United States)।
ট্রাম্প বলেন, “আমি আমেরিকার শক্তি ও প্রভাব আবার ফিরিয়ে এনেছি। দশ মাসে আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি, ইরানের নিউক্লিয়ার হুমকি (Nuclear Threat) ধ্বংস করেছি এবং গাজায় (Gaza) যুদ্ধের ইতি টেনেছি।” তাঁর আরও দাবি, এই উদ্যোগগুলির ফলেই মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) প্রায় তিন হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবার প্রকৃত শান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
গাজা প্রসঙ্গ তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন কূটনৈতিক চাপ ও হস্তক্ষেপের জেরেই হামাস (Hamas) পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। সেই কারণেই ইজরায়েলের (Israel) পণবন্দিদের জীবিত ও মৃত—দুই অবস্থাতেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যদিও এই দাবির বাস্তবতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তবু নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিদেশনীতি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরীণ সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন (Illegal Immigration) নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এখনও পর্যন্ত “শূন্য অবৈধ অভিবাসী” আমেরিকায় প্রবেশ করতে পেরেছে। তাঁর দাবি, দক্ষিণ সীমান্তে (Southern Border) প্রথম দিন থেকেই কঠোর নজরদারি চালু করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও শুল্ক নীতি (Tariff Policy) তাঁর প্রশাসনের অন্যতম বড় হাতিয়ার বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমদানির উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেই বিপুল বিনিয়োগ টানতে পেরেছে আমেরিকা। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের (18 Trillion Dollars) বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি তাঁর। সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—আমেরিকায় কারখানা গড়লে শুল্ক নেই, বিদেশে উৎপাদন হলে শুল্ক দিতেই হবে।
“ট্যারিফ আমার সবচেয়ে পছন্দের শব্দ,” মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে অন্য দেশগুলো আমেরিকার বিরুদ্ধে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তার ফলেই দেশে ফিরছে শিল্প, তৈরি হচ্ছে নতুন কারখানা, বাড়ছে কর্মসংস্থান এবং মজবুত হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা (National Security)।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট—বিদেশনীতি থেকে অর্থনীতি, অভিবাসন থেকে নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই নিজের নেতৃত্বকে ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
