দেশের খবর
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে আধার! সাইবার জালে ফেঁসে বিপাকে মহারাষ্ট্রের বিধায়ক রোহিত পাওয়ার
আধারের সুরক্ষা পরীক্ষা করতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে জাল আধার কার্ড তৈরি করে বিতর্কে বিধায়ক রোহিত পাওয়ার। এখন তাঁর বিরুদ্ধেই দায়ের হয়েছে সাইবার অপরাধের মামলা।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) কারজাত-জামখেদ (Karjat–Jamkhed) বিধানসভা কেন্দ্রের (Assembly Constituency) নাম এখন ঘিরে ধরেছে এক অদ্ভুত সাইবার কাণ্ড। এক নাগরিকের আধার কার্ডে (Aadhaar Card) নাম লেখা ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), আর ছবিতেও (Photo) জ্বলজ্বল করছে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের (Former U.S. President) মুখ। ঠিকানা— ভারতের মহারাষ্ট্রের এক বিধানসভা কেন্দ্র!
এই জাল আধার তৈরির অভিযোগ উঠেছে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)-র বিধায়ক রোহিত পাওয়ারের (Rohit Pawar) বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ মহারাষ্ট্র সাইবার থানায় (South Maharashtra Cyber Police Station) তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৬ অক্টোবরের এক সাংবাদিক সম্মেলনে (Press Conference), যেখানে রোহিত পাওয়ার দাবি করেন— মাত্র ২০ টাকায় এমন ওয়েবসাইট (Unauthorized Website) থেকে জাল আধার তৈরি করা সম্ভব। প্রমাণ হিসেবে তিনি সকলের সামনে দেখান ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ও ছবি যুক্ত এক আধার কার্ড।
রোহিত পাওয়ার বলেন, “এই কার্ডটি আমি নিজেই তৈরি করেছি, যাতে সবাই দেখতে পারেন আধারের নিরাপত্তা (Security) কতটা দুর্বল।” তাঁর দাবি, এই ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল সরকার অনুমোদনবিহীন ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে আধার তথ্যের অপব্যবহার হচ্ছে তা প্রকাশ করা।
বিধায়কের মতে, যদি এমন সহজে জাল আধার তৈরি সম্ভব হয়, তাহলে একইভাবে ভুয়ো ভোটার (Fake Voter) নামও ভোটার তালিকায় যুক্ত করা যেতে পারে। তিনি জানান, আধার তথ্যভাণ্ডারের (Aadhaar Database) গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। পুলিশের দাবি, রোহিত পাওয়ার ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো আধার তৈরি ও প্রচার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইন (IT Act), পরিচয় চুরি (Identity Theft), জালিয়াতি (Forgery) ও ভুয়ো তথ্য প্রচারের (False Information Dissemination) অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
এনসিপি (NCP) সূত্রে জানা গিয়েছে, রোহিত পাওয়ারের উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের গাফিলতি তুলে ধরা, তবে এখন তা উল্টে নিজেকেই ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সাইবার ক্রাইম বিভাগ (Cyber Crime Department)।
