বাংলার খবর
‘লন্ডন’ মডেলকে মোদীর তোপ: কলকাতার হৃত গৌরব ফেরাতে পরিবর্তনের ডাক প্রধানমন্ত্রীর
২০২৬-এর মহাযুদ্ধে কলকাতার পরিচয় রক্ষায় সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী। মমতার লন্ডন বানানোর স্বপ্নকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়’ বলে কটাক্ষ করে সপ্তম বেতন কমিশন ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিলেন তিনি।
বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ এখন তুঙ্গে। দ্বিতীয় দফা ও অন্তিম পর্বের ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে তিলোত্তমার ভাগ্য নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক ময়দান। সিপাই বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত ব্যারাকপুরের জগদ্দলের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো প্রতিশ্রুতিকে তীব্র কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী কলকাতাকে ‘লন্ডন’ বানানোর যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, ১৫ বছর পর তাকেই হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী পালটা সওয়াল করলেন— ‘কলকাতাকে লন্ডন নয়, কলকাতাই তৈরি করতে হবে।’
লন্ডন বনাম কলকাতা: পরিচয়ের লড়াই
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে তিলোত্তমা তার নিজস্ব পরিচয় হারিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সমালোচনা করে তিনি বলেন, শহরকে লন্ডন বানানোর নাম করে আসলে অনুপ্রবেশকারীদের (Infiltrators) চারণভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, শাসকদলের মদতেই শহরে অনুপ্রবেশ বাড়ছে, যা কলকাতার সংস্কৃতি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।
মোদীর মতে, কলকাতার জন্য প্রয়োজন একুশ শতকের উপযোগী আধুনিক পরিকাঠামো। তিনি কলকাতাকে ‘সিটি অফ জয়’ (City of Joy) থেকে ‘সিটি অফ ফিউচার’ (City of Future) করার ডাক দেন। এর জন্য সুগঠিত পরিবহন ব্যবস্থা (Transport System) এবং কলকাতা মেট্রোর দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন তিনি।
স্লোগান ও রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আক্রমণ
এ দিনের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ১৫ বছর শাসন করার পর তৃণমূল এখন তাদের মূল স্লোগানই ভুলে গিয়েছে। নারী সুরক্ষা বা যুবকদের কর্মসংস্থান— কোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড (Report Card) দেখানোর মতো কিছু নেই শাসকদলের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলের কাছে বাংলার ভবিষ্যতের কোনো রূপরেখা (Roadmap) বা দূরদর্শিতা (Vision) নেই। তারা কেবল গালিগালাজ আর হুমকির রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
বিজেপির একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করেন। তিনি আশ্বাস দেন:
-
বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) সুবিধা পাবেন।
-
স্কুলে স্কুলে কনটেন্ট ক্রিয়েশন (Content Creation) কোর্স চালু করা হবে।
-
বাংলায় কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি (Guarantee) ১২৫ দিনে উন্নীত করা হবে।
-
হকারদের জন্য ‘PM স্বনিধি’ যোজনার প্রসার এবং মাছ ব্যবসায়ীদের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন, ওড়িশা (অঙ্গ) ও অন্ধ্রপ্রদেশের (কলিঙ্গ) পর এবার পশ্চিমবঙ্গ বা বঙ্গেও পদ্ম ফুটবে। ৪ মে-র পর বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন বলেও ঘোষণা করেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাণী স্মরণ করে তিনি বাংলার মানুষকে পরিবর্তনের (Parivartan) ডাক দিয়ে প্রচার শেষ করেন।
