খেলাধুলা
মেজাজ হারিয়ে কড়া শাস্তির কবলে কেকেআর-এর রঘুবংশী: কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে
কেকেআর বনাম লখনউ ম্যাচে ‘ফিল্ডিংয়ে বাধা’ দেওয়ার দায়ে আউট হয়ে মেজাজ হারালেন রঘুবংশী। মাঠের সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগে তাঁকে ম্যাচ ফি-র ২০ শতাংশ জরিমানা করল আইপিএল কর্তৃপক্ষ।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants) বিরুদ্ধে ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) তরুণ প্রতিভা অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর আউট নিয়ে ক্রিকেট মহলে এখন তুমুল উত্তেজনা। ম্যাচের মাঝপথে একটি বিতর্কিত রান আউট (Run Out) কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নাটকীয় পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে শাস্তির কোপে। লখনউয়ের ফিল্ডারের ছোঁড়া বল আটকানোর অভিযোগে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে, যা মেনে নিতে পারেননি এই তরুণ ব্যাটার। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এখন বড়সড় জরিমানার কবলে রঘুবংশী।
মাঠে মেজাজ হারিয়ে শাস্তির মুখে রঘুবংশী
আইপিএল (IPL) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে (Official Statement) জানানো হয়েছে যে, রঘুবংশী আইপিএলের আচরণবিধি (Code of Conduct) ভঙ্গ করেছেন। তাঁকে লেভেল ১ অপরাধে (Level 1 Offence) দোষী সাব্যস্ত করে ম্যাচ ফি-র (Match Fee) ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। মূলত মাঠের সরঞ্জাম বা উপকরণের অপব্যবহারের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অধিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
ঘটনাটি ঘটেছিল কেকেআর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে। আউট হওয়ার পর হতাশায় ফেটে পড়েন রঘুবংশী। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে রাগের মাথায় ব্যাট দিয়ে বাউন্ডারি কুশনে (Boundary Cushion) আঘাত করেন এবং নিজের হেলমেট (Helmet) ছুঁড়ে ফেলে দেন। এই অপেশাদার আচরণ ম্যাচ রেফারির নজর এড়ায়নি, যার ফলে জরিমানার পাশাপাশি তাঁর নামের পাশে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট (Demerit Point) যোগ করা হয়েছে।
কেন তৈরি হলো আউটের বিতর্ক?
অঙ্গকৃশ তখন ৭ বলে ৯ রান করে ক্রিজে ছিলেন। একটি বল খেলে রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করেও মাঝপথ থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ফিল্ডার উইকেট লক্ষ্য করে বল ছুঁড়লে দেখা যায়, রঘুবংশী তাঁর দৌড়ের পথ বা অ্যাঙ্গল (Angle) সামান্য পরিবর্তন করেছেন, যার ফলে বলটি তাঁর পায়ে লাগে।
লখনউয়ের অধিনায়ক ও ফিল্ডাররা অবিলম্বে ‘ফিল্ডিংয়ে বাধা’ দেওয়ার (Obstructing the field) অভিযোগ তোলেন। অন-ফিল্ড আম্পায়ার বিষয়টি থার্ড আম্পায়ারের (Third Amper) কাছে পাঠালে রিপ্লে (Replay) দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, অঙ্গকৃশ ইচ্ছাকৃতভাবে বলের গতিরোধ করেছিলেন। ক্রিকেটের নিয়মানুযায়ী এটি আউট। তবে কেকেআর শিবিরের দাবি ছিল, এটি অনিচ্ছাকৃত একটি ঘটনা। এই বিতর্কিত আউটের পরেই মূলত মেজাজ হারান এই তরুণ ক্রিকেটার।
