বাংলার খবর
চিচিড়ার দুর্গাপুজোয় ১৪৩ বছরের রীতি, বন্দুকের গুলি ও সাইরেনে শুরু-শেষ সন্ধিপুজো
চিচিড়ার দুর্গামণ্ডপে ১৪৩ বছর ধরে সন্ধিপুজো শুরু হয় বন্দুকের গুলির শব্দে আর শেষ হয় সাইরেন বাজিয়ে। দুর্গাপ্রসাদ প্রামাণিকের আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য এখনও গ্রামে অটুট।
চিচিড়ার দুর্গামণ্ডপে (Durga Mandap) সন্ধিপুজো মানেই অন্য রকম আবহ। পুষ্পাঞ্জলি (Pushpanjali) শেষ হতেই শুরু হয় এক অনন্য প্রথা। আকাশে ছোড়া হয় বন্দুকের গুলি (Gun Firing)। আর সেই গুলির শব্দের সঙ্গেই শুরু হয় সন্ধিপুজো (Sandhi Puja)। সঙ্গে বাজতে থাকে সাইরেন (Siren)। প্রায় পঞ্চাশ মিনিট ধরে চলতে থাকে সেই সাইরেন। থেমে গেলেই বোঝা যায়, শেষ হলো পূজা।
এই প্রথার বয়স ১৪৩ বছর। চিল্কিগড়ের রাজার নায়েব দুর্গাপ্রসাদ প্রামাণিক (Durga Prasad Pramanik)-এর আমল থেকে শুরু এই পুজো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে গ্রামের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় স্থানীয়দের হাতে। সেই থেকে চলছে চিচিড়া সর্বজনীন শারদীয় পূজা মহোৎসব কমিটির (Sharadiya Puja Committee) আয়োজনে পুজো। এ বছর ৭৩তম বর্ষ।
প্রথমে সোনার বিগ্রহে (Golden Idol) পূজা হলেও পরে হারিয়ে যাওয়ায় শুরু হয় মাটির প্রতিমার (Clay Idol) পুজো। বন্দুকের গুলি ছুড়ে সন্ধিপুজো শুরু করার প্রথা এখনও জিইয়ে আছে। যদিও আজ বন্দুকটি গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ধার করতে হয় এবং পুলিশের থেকে গুলি চালানোর অনুমতি নেওয়া হয়।
সন্ধিপুজোর সময় সাইরেন বাজানোর রীতি একসময় আত্মরক্ষার অংশ ছিল। অতীতে অগ্নিকাণ্ড বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War II) সময় বিমানের শব্দ শুনলে সাইরেন বাজিয়ে গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হতো। আজও সেই হাতে ঘোরানো পুরোনো সাইরেন সংরক্ষিত রয়েছে স্থানীয় সাউ পরিবারের কাছে।
এই পুজোর আরেক আকর্ষণ নহবৎ (Nahabat)—২৫ ফুট উঁচু বাঁশের মাচায় বসে শিল্পীরা বাজান সানাই (Shehnai) ও নাকাড়া (Nagada)। প্রতিমা বিসর্জনের রীতিও অনন্য। সিঁদুর খেলার পরে প্রতিমা একবার কাঁধে তোলা হলে আর নামানো হয় না, নেচে গেয়ে প্রায় পাঁচশো মিটার দূরের পুকুরে পৌঁছে তবেই হয় বিসর্জন।
পুজো ঘিরে চারদিন ধরে চলে যাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নবমীর অন্নভোগ। অতীতে ওডিশা ও ঝাড়খণ্ড থেকেও ভিড় জমত। যদিও সেই জৌলুস খানিক কমেছে, তবুও আজও অটুট দুর্গাপ্রসাদ প্রামাণিকের পুজোর ঐতিহ্য।
