লাইফস্টাইল
দামি অলিভ অয়েল কিনছেন অথচ সঠিক নিয়ম জানেন না? নষ্ট হতে পারে সমস্ত পুষ্টিগুণ
অলিভ অয়েল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও ভুল তাপমাত্রায় এটি ক্ষতিকর হতে পারে। হার্ট সুস্থ রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে অলিভ অয়েল ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন।
সুস্থ থাকতে ইদানীং অনেকেই সাধারণ তেলের বদলে রান্নাঘরে অলিভ অয়েল (Olive oil) নিয়ে আসছেন। হার্টের সুরক্ষা থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ—অলিভ অয়েলের গুণের শেষ নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভুল পদ্ধতিতে রান্না করলে এই দামী তেলের সমস্ত পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে বিষে পরিণত হতে পারে? সর্ষের তেল বা রিফাইন্ড অয়েলের মতো অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম কিন্তু এক নয়।
শরীরের কথা ভেবে যদি অলিভ অয়েল কেনেন, তবে তার সঠিক ব্যবহার ও রান্নার পদ্ধতি জেনে রাখা জরুরি:
কেন অলিভ অয়েল সেরা?
অন্যান্য তেলের তুলনায় অলিভ অয়েলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) থাকে, যা শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Omega-3 fatty acids) রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। ডায়াবিটিস বা ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য এটি মহৌষধের মতো কাজ করে।
রান্নার সঠিক পদ্ধতি
অলিভ অয়েলের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর স্মোক পয়েন্ট (Smoke point) বা দহন ক্ষমতা।
-
আঁচ কমিয়ে রান্না: উচ্চ তাপমাত্রায় বা কড়া আঁচে অলিভ অয়েল গরম করলে এর গঠন ভেঙে যায়। তাই ভাজাভুজি বা ডিপ ফ্রাই করার জন্য এই তেল একদমই উপযুক্ত নয়।
-
সাঁতলানো বা অল্প আঁচে রান্না: সবজি সেদ্ধ বা ডাল রান্নায় গ্যাসের আঁচ কমিয়ে এই তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
-
কাঁচা ব্যবহার: পুষ্টিবিদদের মতে, অলিভ অয়েলের আসল গুণ পেতে এটি কাঁচা অবস্থায় খাওয়া সবচেয়ে ভালো। স্যালাড ড্রেসিং (Salad dressing), পাস্তা বা গ্রিল্ড চিকেনের ওপর রান্নার শেষে এই তেল ছড়িয়ে দিলে পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যায়।
সংরক্ষণ ও নষ্ট হওয়ার লক্ষণ
অলিভ অয়েল অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশ দামি, তাই এর সঠিক সংরক্ষণ (Storage) প্রয়োজন। সরাসরি রোদ বা তাপ লাগে এমন জায়গায় এই তেল রাখবেন না, কারণ এতে তেল দ্রুত অক্সিডাইজড (Oxidized) হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। অন্ধকার ও ঠান্ডা জায়গায় এর বোতল মুখ বন্ধ করে রাখুন।
কীভাবে বুঝবেন তেল নষ্ট হয়েছে? অলিভ অয়েলের স্বাভাবিক রং হালকা সোনালি বা সবুজ হয়। যদি দেখেন তেলের রং ঘোলাটে (Cloudy) হয়ে গিয়েছে বা স্বাদ বদলে তিতকুটে হয়ে গেছে, তবে বুঝবেন সেটি আর ব্যবহারযোগ্য নয়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এটি ২ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে, তবে ব্যবহারের আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ (Expiry date) অবশ্যই দেখে নেবেন।
