জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ওএমআর ও নিয়োগের দাবিতে সল্টলেকে চাকরিপ্রার্থীরা!
মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে চাকরিপ্রার্থীদের ঢল। সল্টলেকে শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি শিক্ষক ও পুলিশ পদের চাকরিপ্রার্থীরা। সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার মেনে ফ্রেশ সিলেকশন ও নবান্নে বৈঠকের আবেদন আন্দোলনকারীদের।
সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ (Complaints) সরাসরি শুনতে বিশেষ ‘জনতার দরবার’ (Janatar Darbar)-এ মুখোমুখি হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বহু মানুষ। এই দরবারে নিজেদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সমস্যার কথা জানাতে হাজির হয়েছিলেন বিভিন্ন স্তরের চাকরিপ্রার্থীরাও (Job aspirants)। তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে চিঠি দিয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেন এবং নতুন সরকার তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করবে বলে আশাপ্রকাশ করেন।
দরবারে আসা চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবি, ওএমআর (OMR)-এর নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্যতার মাপকাঠিতে রাজ্যে সম্পূর্ণ নতুনভাবে স্বচ্ছ নিয়োগ বা ‘ফ্রেশ সিলেকশন’ (Fresh selection) করা হোক। তাঁরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, বর্তমান জনমুখী সরকার তাঁদের দীর্ঘদিনের এই জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে।
ওএমআর প্রকাশ ও স্বচ্ছ নিয়োগের দাবি
‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী মঞ্চ’-র আহ্বায়ক (Convenor) সুমন বিশ্বাসের কথায়, “২২ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর ওএমআর প্রকাশ এবং ওএমআর-এর ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বর, অ্যাকাডেমিক (Academic) ও ন্যূনতম ১০ নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ নিয়ে আমাদের লড়াই দীর্ঘদিনের। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সেই নির্দেশ বা অর্ডার (Order) দিলেও রাজ্যে এখনও নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। সম্প্রতি এসএলএসটি-২ ২০২৫ (SLST-2 2025) পরীক্ষা হলেও, তা আসলে একটি ওপেন সিলেকশন (Open selection)। তার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত ফ্রেশ সিলেকশনের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে আবেদন জানিয়েছি যাতে তিনি আমাদের সঙ্গে নবান্নে (Nabanna) একটি বৈঠক (Meeting) করেন।”
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষ তো দূর, নিজের দলের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গেই দেখা করতেন না। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে সত্যিই সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের কথা শোনেন, তা তিনি আজ প্রমাণ করে দিলেন। সুমন বিশ্বাস আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চাকরিহারারা বর্ধিত সময়সীমা বা এক্সটেনশনে (Extension) আছেন। এই চাকরিহারারা এবার মানসিক মুক্তি চান। এই সরকার জনগণের সরকার, তাই বিধানসভায় (Assembly) আইন পাস করে প্রশাসন এবার স্বচ্ছ নিয়োগের সব রকম ব্যবস্থা করবে বলে আশাবাদী তাঁরা।
পুলিশে নিয়োগে মেয়েদের উচ্চতার ছাড়পত্র চান চাকরিপ্রার্থীরা
এ দিন শুধুমাত্র শিক্ষক পদপ্রার্থীরাই নন, মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে হাজির হয়েছিলেন পুলিশে চাকরিপ্রার্থীরাও (Police job aspirants)। তাঁরা মূলত মেয়েদের নিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চতার (Height) একটি বড় সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
সুস্মিতা ধাড়া নামে এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী সংবাদমাধ্যমে (Media) জানান, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি জনগণনা (Census) অনুযায়ী এখানকার মেয়েদের গড় উচ্চতা ১৫১.১ সেন্টিমিটার। অথচ বাংলায় পুলিশে মহিলাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা ভৌগোলিক ও শারীরিক গঠনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government) ক্ষেত্রেও পুলিশে নিয়োগে মেয়েদের গড় উচ্চতার মাপকাঠি সাধারণত ১৫৭ সেন্টিমিটার চাওয়া হয়। রাজ্যে এই অতিরিক্ত উচ্চতার কড়াকড়ির কারণে সাব-ইন্সপেক্টর (SI), কনস্টেবল (Constable), আবগারি পুলিশ (Excise Police) বা কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য মেয়ে অংশই নিতে পারছেন না। এই মাপকাঠি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)