কঙ্গোতে বেলাগাম ইবোলা: মৃত ২০৪, আফ্রিকায় ৩ দেশে ভারতীয়দের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
মধ্য আফ্রিকায় নতুন 'বুন্দিবুগিও' স্ট্রেনের ইবোলা সংক্রমণে ২০৪ জনের মৃত্যু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল WHO। কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানে ভারতীয়দের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ভারত সরকার।
মধ্য আফ্রিকায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ (infection)। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে (ডিআরসি) শনিবার রাত পর্যন্ত প্রায় ৮৬৭ জন ইবোলা আক্রান্তের খবর মিলেছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০৪ জনের মৃত্যু (death) হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ (WHO) এই সংক্রমণকে বিশ্বব্যাপী জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি (Public Health Emergency) হিসেবে ঘোষণা করেছে। কঙ্গোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও দুই ব্যক্তির শরীরে ইবোলা ধরা পড়েছে, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা দু’জনেই কঙ্গো থেকে উগান্ডায় এসেছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে উগান্ডা-কঙ্গোর সীমান্ত (border) আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নেই কোনও ভ্যাকসিন, মিলছে না চিকিৎসা সরঞ্জাম বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ বারের ইবোলা সংক্রমণ বিরল ভাইরাস 'বুন্দিবুগিও' (Bundibugyo) স্ট্রেনের কারণে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনের এখনও কোনও অনুমোদিত ভ্যাকসিন (vaccine) বা চিকিৎসা নেই। এই রোগে মৃত্যুর হার (mortality rate) প্রায় ৫০ শতাংশ। কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের খনি অঞ্চলে এই ভাইরাস প্রথম ছড়িয়েছিল, কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেননি। আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (medical equipment) এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছয়নি, ফলে মাঠপর্যায়ে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
ভারতীয়দের আফ্রিকায় যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি নির্দেশিকা আফ্রিকায় ইবোলার এই ভয়াবহতা দেখে ভারত সরকার একটি জরুরি সতর্কবার্তা (travel advisory) জারি করেছে। ভারতীয় নাগরিকদের কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ সুদানকেও এই রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা (high-risk area) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, এ দেশে এখনও পর্যন্ত বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের কোনও ইবোলা আক্রান্তের খোঁজ মেলেনি। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ভারতের বিমানবন্দর ও প্রবেশপথগুলিতে নজরদারি (screening) বাড়ানো হয়েছে। আফ্রিকার ওই তিন দেশে থাকা ভারতীয়দের স্থানীয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে, অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকতে এবং জ্বর হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
বিমান ও সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ, পিছিয়ে গেল ভারত-আফ্রিকা সম্মেলন সংক্রমণ রুখতে কঙ্গো সরকার তাদের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুনিয়াতে সমস্ত বিমান চলাচল (flights) স্থগিত করেছে। উগান্ডা সরকারও কঙ্গোর সঙ্গে বিমান ও সমস্ত গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে পণ্য ও খাদ্যবাহী গাড়ি চলাচলের অনুমতি রয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার সাপ্তাহিক বাজারগুলিও বন্ধ রাখা হয়েছে আপাতত।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে মে মাসের শেষে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘ভারত-আফ্রিকা সম্মেলন’ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে, তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (clinical trials) জন্য প্রয়োজনীয় ডোজ় তৈরি হতে আরও ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে।
Frequently Asked Questions
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)