৩০ মে ডিএ নিয়ে চার সংগঠনের সঙ্গে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ব্রাত্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) জট কাটাতে আগামী ৩০ মে নবান্নে ৪টি কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সব সংগঠনকে না ডাকায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক।

May 24, 2026 - 13:15
Updated: 11 hours ago
0 0
৩০ মে ডিএ নিয়ে চার সংগঠনের সঙ্গে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ব্রাত্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ
শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) সংক্রান্ত জট কাটাতে আগামী ৩০ মে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই দিন বেলা ১১টা নাগাদ নবান্নে (State Secretariat) এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রশাসনের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের মাঝেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক (Controversy)। জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী এই আলোচনার জন্য সমস্ত সংগঠনকে না ডেকে, মাত্র চারটি সরকারি কর্মচারী সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই বাকি সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ৩০ মে-র বৈঠকে মূলত সেইসব সংগঠনকে ডাকা হয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে ডিএ নিয়ে আইনি লড়াই (Legal Battle) চালাচ্ছিল। আমন্ত্রিত সংগঠনগুলির তালিকায় রয়েছে— সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অফ গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ়, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ। রাজ্য প্রশাসনের একটি মহলের দাবি, আইনি জটিলতা পাশে সরিয়ে রেখে কীভাবে দ্রুত সরকারি কর্মচারীদের দাবিদাওয়া পূরণ করা যায়, সেই রূপরেখা (Blueprint) তৈরি করতেই এই বিশেষ বৈঠক। এখানে ডিএ-র পাশাপাশি পে কমিশন (Pay Commission) নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

তবে এই ‘বাছাই করা’ বৈঠক নিয়ে সুর চড়িয়েছে বামপন্থী কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সংগঠনের প্রবীণ নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে দলেরই হোন না কেন, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় নিরপেক্ষ (Neutral) হওয়া উচিত। কিন্তু এই বৈঠক ডাকার ক্ষেত্রে সেই নিরপেক্ষতা বজায় রইল না। ২০১১ সাল থেকে তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়েও আমরা ডিএ ও পে কমিশনের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন (Movement) করেছি, আমাদের কমরেডরা জেলেও গেছেন। আজ আমাদের সেই লড়াইয়ের মর্যাদা দেওয়া হলো না।” তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আলোচনার দরজা সবার জন্য খোলা রাখবেন।

একই সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল। তাঁর প্রশ্ন, “ডিএ আন্দোলনের সাথে বহু সংগঠন যুক্ত ছিল এবং সরকার পরিবর্তনের (Change of Government) ক্ষেত্রেও তাদের বড় ভূমিকা ছিল। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী কেন এমন বিভাজনের রাজনীতি করছেন?”

অন্যদিকে, বৈঠকে ডাক পাওয়া সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ অবশ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিগত সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আগের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তো সরকারি কর্মচারীদের অস্পৃশ্য (Untouchable) মনে করতেন। বর্তমান সরকার অন্তত আমাদের মতো লড়াকু সংগঠনের মতামত জানতে আলোচনার পরিসর (Space) খোলা রেখেছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, বৈঠকে তাঁরা কেবল নিজেদের কথা নয়, বরং সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের (Pensioners) দাবিদাওয়া নিয়ে খোলা মনে আলোচনা করবেন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User