অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর প্রশাসন; এবার জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ শুভেন্দু সরকারের

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি মেনে প্রত্যেক জেলায় ডিটেনশন ক্যাম্পের আদলে তৈরি হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার।

May 24, 2026 - 15:46
Updated: 8 hours ago
0 0
অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর প্রশাসন; এবার জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ শুভেন্দু সরকারের
শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল (political regime change) ঘটতেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এবার অবৈধভাবে আসা বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি মেনে ‘থ্রি-ডি’ ফর্মুলা প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই নীতির মূল ভিত্তি হলো— ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (Detect, Delete, Deport), যার অর্থ অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে চিহ্নিত করা, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং সবশেষে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো।

এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত বাস্তবায়িত করতে রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় ডিটেনশন ক্যাম্পের (detention camp) আদলে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (holding center) তৈরির আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।

কী রয়েছে নতুন নির্দেশিকায়?

সরকারি নির্দেশিকায় (government notification) স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের পর যাঁরা অবৈধ উপায়ে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে এই হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে রাখা হবে। পাশাপাশি, একই অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি (imprisoned) রয়েছেন, তাঁদেরও সাধারণ কারাগার থেকে সরিয়ে এই সেন্টারে নিয়ে আসা হবে। পরবর্তীতে সেখান থেকেই তাঁদের সরাসরি পুশব্যাক (pushback) বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের ধরে কোনো দীর্ঘ আইনি বা বিচার প্রক্রিয়ার (judicial process) মধ্যে জড়ানো হবে না। নতুন নোটিস অনুযায়ী:

  • সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (BSF) অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আটক করার পর সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসবে।

  • সেখানে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই তাঁদের ওপারে ফেরত পাঠানো হবে।

রাজনীতির পটপরিবর্তন ও কেন্দ্রের নীতি

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে বিগত দিনে বারবার সরব হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার (central government)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ— সকলেই বাংলায় নির্বাচনী প্রচারের এসে তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে এই ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও (assembly election) এই অনুপ্রবেশের বিষয়টি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু (political issue) হয়ে উঠেছিল।

এর আগে ২০২৫ সালে কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যগুলোকে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তীব্র বিরোধিতা করে ঘোষণা করেছিলেন, "বাংলায় কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না, কাউকে তাড়ানো হবে না।" তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হতেই পূর্ববর্তী সরকারের সেই সিদ্ধান্ত বদলে কেন্দ্রের নীতি অনুযায়ী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হলো।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User