পরমব্রতর ‘রগড়ানি’ পোস্টে সায় দেওয়ার জের, অবশেষে ভোট-পরবর্তী হিংসায় প্ররোচনার মামলায় পুলিশি জেরার মুখে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। পরমব্রতর ‘রগড়ানি’ পোস্টে সায় দেওয়া নিয়ে চলল দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। বিস্তারিত জানুন।
কলকাতা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election) পরবর্তী হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের মুখোমুখি হলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে বালিগঞ্জ সংলগ্ন গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন তিনি। গত ২১ মে, বৃহস্পতিবার এই মামলায় টলিপাড়ার দুই পরিচিত মুখ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর (First Information Report) দায়ের হওয়ার খবর আসতেই রাজ্য রাজনীতি তথা বিনোদন মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।
অভিযোগকারী তথা আইনজীবী (Lawyer) জয়দীপ সেনের আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ স্বস্তিকাকে সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নোটিস পাঠিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই আজ থানায় পৌঁছান অভিনেত্রী। পরমব্রতর পাঁচ বছর আগের এক বিতর্কিত পোস্টকে সমর্থন করার কারণ জানতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ (Interrogation) করেন তদন্তকারীরা। তবে থানা থেকে বেরোনোর সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নেরই উত্তর না দিয়ে সোজা নিজের গাড়িতে উঠে যান তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল ২০২১ সালের ২ মে? ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২ মে, অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন। জয়দীপ বাবুর দায়ের করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সেদিন বিকেল চারটে নাগাদ তৃণমূল কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছুঁয়ে ফেলতেই এক্স হ্যান্ডলে (X, formerly Twitter) অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।’ এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সায় দিয়ে পালটা পোস্ট করেন স্বস্তিকাও। তিনি লেখেন, ‘হা হা হা হোক হোক!’
আইনজীবীর বিস্ফোরক অভিযোগ: অভিযোগকারীর দাবি, ভোট পরবর্তী উত্তপ্ত ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর (Sensitive) পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমের (Social Media) পাতায় তারকাদের এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কার্যত বারুদে অগ্নিসংযোগের কাজ করেছিল। ওই উসকানিমূলক বার্তার জেরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা (Law and Order) পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যায়।
গড়িয়াহাট থানায় জমা পড়া চিঠিতে আইনজীবী আরও দাবি করেছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির (Indian Penal Code) ১০৭ ধারা অনুযায়ী অভিনেতা ও অভিনেত্রীর এই ভূমিকা প্ররোচনামূলক অপরাধের শামিল। ওই সময়ে বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলা, অগ্নিসংযোগ, শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল। তারকাদের এই মন্তব্যগুলি সেই হিংসার আগুনকে আরও বাড়িয়ে দিতে প্ররোচনা (Provocation) দিয়েছিল বলেই অভিযোগপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হাই-প্রোফাইল (High-profile) মামলায় এফআইআর রুজু হওয়ার পর থেকে পরমব্রত বা স্বস্তিকা কেউই ব্যক্তিগতভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি। স্বস্তিকা আইনি নোটিস মেনে আজ থানায় হাজিরা দিলেও, মামলার অন্য অভিযুক্ত পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় কবে পুলিশের মুখোমুখি হন, এখন সেটাই দেখার।
Frequently Asked Questions
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)