কর্মী সংকট মেটাতে কড়া পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের, কোন দফতরে কত ফাঁকা পদ রয়েছে তা জানতে জারি হলো বিজ্ঞপ্তি
সরকারি কাজে গতি আনতে তৎপর নতুন সরকার। ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত দফতরের শূন্যপদের তালিকা চেয়ে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাটতে চলেছে নিয়োগ জট।
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন সরকারি দফতরের কাজে গতি বাড়াতে তৎপর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। কোন দফতরে কত শূন্যপদ (Vacancy) রয়েছে, এবার তার সম্পূর্ণ হিসেব চেয়ে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৩ জুনের মধ্যে এই তথ্য তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে বলে শনিবার একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি (Notification) জারি করলেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব। সংশ্লিষ্ট দফতরের ডিরেক্টর (Director) পদাধিকারীদের এই তালিকা তৈরির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের পর খুব দ্রুতই রাজ্যে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হয়েই শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা ছিল, সরকারি দফতরে আর ‘আঠেরো মাসে বছর’ চলবে না। জনগণকে সঠিক পরিষেবা দিতে ঘড়ি ধরে কাজ করতে হবে সমস্ত কর্মীদের। যে কোনও সময় নিজের খেয়ালখুশি মতো অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়া যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বর্তমানে অতি দ্রুতগতিতে কাজ সারছেন। বিশেষত, পূর্বতন সরকারের আটকে থাকা জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলি (Projects) তাড়াতাড়ি চালু করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে নতুন নতুন ঘোষণা করছেন তিনি।
কর্মী সংকট মেটাতেই এই কড়া পদক্ষেপ: উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যে প্রধান সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা হলো বিভিন্ন সরকারি দফতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রচুর কর্মী সংকট (Staff Shortage)। আর সেই বড় সমস্যা মেটাতেই তিনি প্রতিটি দফতরের কাছে খালি পদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন, যা আগামী ৩ জুনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জমা দিতে হবে।
আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিভিন্ন সরকারি দফতরে ব্যাপক কর্মী সংকট দেখা গিয়েছিল। তখন কখনও অবসরপ্রাপ্তদের কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে, আবার কখনও চুক্তিভিত্তিতে (Contractual) কর্মী নিয়োগ করে কোনওরকমে কাজ চালানো হয়েছে। শূন্যপদে স্থায়ী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি বাধা (Legal Hurdles) ছিল। তার মূল কারণ, বেআইনিভাবে কর্মী নিয়োগের পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ উঠেছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ায় সেই আইনি জটে আটকে ছিল স্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া। বিগত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার এই নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছিলেন।
তবে এবার নতুন সরকারের আমলে সেইসব পুরনো জট কেটে ফের সরকারি দফতরে নতুন করে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলো। চাকরিপ্রার্থীদের আশা, খুব দ্রুতই একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার (Transparent Process) মাধ্যমে রাজ্যের শূন্যপদগুলি পূরণ করবে শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
Frequently Asked Questions
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)