উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের প্রাকৃতিক বিভাজিকা: রহস্যে ঘেরা সাতপুরা পর্বতমালার ইতিবৃত্ত
Connect with us

শিক্ষা

উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের প্রাকৃতিক বিভাজিকা: রহস্যে ঘেরা সাতপুরা পর্বতমালার ইতিবৃত্ত

ভারতের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সাতপুরা পর্বতমালা কেবল একটি পর্বতশ্রেণি নয়, এটি দেশের জলবায়ু ও নদীপ্রবাহের নিয়ন্ত্রক। জানুন কেন একে ‘সেন্ট্রাল স্পাইন’ বলা হয়।

Published

on

ভারতবর্ষের ভৌগোলিক মানচিত্রের দিকে তাকালে আমরা এক বিশাল বৈচিত্র্য দেখতে পাই। কোথাও গগনচুম্বী হিমালয়, কোথাও বিস্তীর্ণ মরুভূমি, আবার কোথাও উর্বর সমভূমি। তবে ভারতের ঠিক মাঝখানে এমন এক পর্বতশ্রেণি অবস্থান করছে, যা দেশের প্রাকৃতিক কাঠামোকে ধরে রেখেছে। ভৌগোলিক ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে এই পর্বতমালাকে ‘ভারতের মেরুদণ্ড’ বা ‘সেন্ট্রাল স্পাইন’ (Central Spine) বলে অভিহিত করা হয়। এটি আর কিছুই নয়, আমাদের সুপরিচিত সাতপুরা রেঞ্জ (Satpura Range)।

কেন সাতপুরা পর্বতমালাকে ‘মেরুদণ্ড’ বলা হয়?

সাতপুরা পর্বতমালা মধ্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। মূলত মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং ছত্তিশগড় রাজ্যের বুক চিরে চলে যাওয়া এই পর্বতমালা ভারতের কেন্দ্রীয় উচ্চভূমির (Central Highlands) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রাচীন পর্বতশ্রেণিটি উত্তরে বিন্ধ্য পর্বতমালা এবং দক্ষিণে নর্মদা নদীর উপত্যকার মাঝে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

পূর্ব গুজরাট থেকে শুরু করে পশ্চিম ছত্তিশগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলটি ভারতের জলবায়ু এবং নদীপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে। এটি উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক বিভাজন (Natural Division) তৈরি করে, যা ভারতের ভৌগোলিক ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য।

জীববৈচিত্র্য ও নদীপ্রবাহের উৎস

সাতপুরা অঞ্চলের অরণ্য কেবল মনোরম নয়, বরং এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার ঘন বনভূমি (Dense Forest), পাহাড় এবং মালভূমি বহু দুর্লভ বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। এই অঞ্চলে একাধিক জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্ক (National Park) এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে, যা ভারতের জীববৈচিত্র্যকে (Biodiversity) সমৃদ্ধ করে।

Advertisement

এই পর্বতমালার সবথেকে বড় বিশেষত্ব হলো এর জলবিভাজিকা (Watershed) হিসেবে কাজ করার ক্ষমতা। এটি নর্মদা এবং তাপ্তি নদীর প্রবাহকে পৃথক করে। সাতপুরা থেকে উৎপন্ন হওয়া নদীগুলি আশেপাশের উপত্যকাগুলোতে পলি জমিয়ে উর্বর ভূমি (Fertile Land) তৈরি করেছে, যা কৃষিকাজ এবং জনবসতির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভারতের জলব্যবস্থার (Water Management) ক্ষেত্রে এই পর্বতমালার অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ধূপগড়: সাতপুরার উচ্চতম শিখর

পর্যটকদের কাছে সাতপুরা মানেই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এই পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো ধূপগড় (Dhupgarh), যা পচমাড়ির কাছে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৩৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই শৃঙ্গ থেকে চারপাশের পাহাড়ের যে নৈসর্গিক দৃশ্য দেখা যায়, তা এক কথায় অতুলনীয়। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমান।

পরিশেষে বলা যায়, সাতপুরা কেবল পাথরের পাহাড় নয়; এটি ভারতের পরিবেশ, কৃষি এবং ঐতিহ্যের এক শক্তিশালী স্তম্ভ। একে রক্ষা করা মানেই ভারতের প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে সুরক্ষিত রাখা।

Advertisement

Dwip Narayan Chakraborty is a dedicated journalist, digital content creator, and web strategist at Bengal Xpress. With a strong background in web design, digital marketing, and news media, he crafts compelling regional and national stories that inform, engage, and inspire. Dwip brings a unique blend of technical expertise and editorial vision, ensuring Bengal Xpress remains at the forefront of digital journalism in West Bengal. When he's not writing or managing the site, he's exploring new tools to innovate online news delivery.

Continue Reading
Advertisement