রাজনীতি
ব্লাড প্রেশার কমাতে গরুকে আদর! মন্ত্রিত্ব পেয়েই ফের বিতর্কিত ‘গো-তত্ত্ব’ দিলীপ ঘোষের
রাজ্যের নতুন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, দেশি গরুর পিঠে হাত বোলালে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়। সোনার দুধের পর ফের তাঁর গো-তত্ত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
কলকাতা: রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী (Cabinet Minister) হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই আবারও নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে ফিরলেন দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে একটি ‘চা-চক্রে’ (Tea Session) যোগ দিয়ে তিনি দাবি করলেন, গরুকে নিয়মিত আদর করলে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার (Blood Pressure) দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নতুন ‘গো-তত্ত্ব’ দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘‘দেশি গরুর গলকম্বল কিংবা পিঠের কুঁজে হাত বোলালে মানুষের চড়া রক্তচাপ অত্যন্ত দ্রুত স্বাভাবিক নিয়মে নেমে আসে।’’ শুধুমাত্র রক্তচাপ কমানোর দাওয়াই নয়, এদিন তিনি গোবরের ঔষধি ক্ষমতার কথাও প্রচার করেন। নিজের এক আত্মীয়ের উদাহরণ টেনে মন্ত্রীর দাবি, চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে শুধু টাটকা গোবর (Cow Dung) লেপেই নাকি একটি কঠিন অসুখ সেরে গিয়েছিল তাঁর ওই আত্মীয়ের।
পুরানো সেই বিতর্কিত মন্তব্য গরুকে নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই ধরনের মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। অতীতে যখন তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন, তখনও একাধিকবার অদ্ভুত সব দাবি করে সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। ২০১৯ সালে বর্ধমানে এক সভায় তিনি দাবি করেছিলেন, ‘‘দেশি গরুর পিঠের কুঁজে একটি বিশেষ ‘স্বর্ণনাড়ি’ থাকে, যার সাহায্যে গরু সূর্যের আলো থেকে সোনা তৈরি করে। সেই কারণেই দুধের রঙ ঈষৎ হলুদ হয় এবং দুধে সোনার উপাদান থাকে।’’ এমনকি করোনা মহামারির (Pandemic) সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ‘গোমূত্র’ (Cow Urine) সেবনের নিদান দিয়েও তিনি ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিলেন।
রাজনৈতিক মহলে হাসির রোল মন্ত্রী হওয়ার পর এহেন বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন মন্তব্য করায় বিরোধীরা তো বটেই, এমনকি সাধারণ মহলেও হাসির রোল উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দায়িত্বশীল মন্ত্রীর পদ থেকে এই ধরনের বক্তব্য রাজ্য সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। যদিও দিলীপ ঘোষের বরাবরের যুক্তি, যারা গাধা, তারা গরুর মাহাত্ম্য (Importance) কোনোদিনও বুঝে উঠতে পারবে না।
বর্তমানে রাজ্যের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে তিনি দুগ্ধ শিল্প ও গোশালা (Goshala) মালিকদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক (Review Meeting) করার কথা ভাবছেন। কিন্তু সেই সরকারি বৈঠকের আগেই তাঁর এই ‘গো-মহিমা’ প্রচার আবারও বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিল।
