কলকাতা: দুপুরের শান্ত আকাশ আচমকাই কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল। এরপরই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি আর বজ্রপাত। কলকাতা, সল্টলেক সহ সংলগ্ন এলাকাগুলি যেন এক লহমায় তছনছ হয়ে যায়। এই আকস্মিক প্রাকৃতিক তাণ্ডবে রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনা রাজ্যজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬-এর এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা
ঘটনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শুক্রবার নবান্নে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এই আকস্মিক দুর্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এর প্রভাব ছিল মারাত্মক। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, এই মুহূর্তে ৭ জনের মৃত্যুর খবর তাঁদের হাতে এসেছে। মৃতদের মধ্যে কেউ ঝড়ো হাওয়ার শিকার হয়েছেন, কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন, কারও বাড়ির উপর গাছ বা দেওয়াল ভেঙে পড়েছে, আবার অনেকে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন। এই বহুমুখী কারণেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। প্রতিটি মৃত্যুই অত্যন্ত বেদনাদায়ক, এবং রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে রাজ্য সরকার ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবে।"
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে একটি বড় ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এই অর্থ দ্রুততার সঙ্গে মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জেলাশাসক (DM) এবং স্থানীয় বিধায়কদের (MLA) এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি দ্রুত এই সাহায্য পেতে পারে।
তছনছ জনজীবন: কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
আচমকা এই ঝড়-বৃষ্টিতে মহানগর কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অসংখ্য গাছ উপড়ে যায়, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে, যার ফলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। শহরের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যায় এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সন্ধ্যার অফিস ফেরত যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউন, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় একই চিত্র দেখা গেছে। বহু জায়গায় টিনের চাল উড়ে গেছে, কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়েছে। কৃষিক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ ও সতর্কতা
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, রাজ্য সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও এই সময়ে সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাজ্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং ক্ষতিপূরণের ঘোষণা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মনে আশার সঞ্চার করেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন নিরন্তর কাজ করে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




Comments (0)
Login or Register to comment.