Breaking
বেঙ্গল এক্সপ্রেস
Welcome! Join the community.
Home / ব্যবসা / মিউচুয়াল ফান্ডে বড় রিটার্ন দেখে লগ্নির ভুল নয়! কাচের মতো স্বচ্ছ লাভ বুঝতে ভরসা রাখুন রোলিং রিটার্নে
ব্যবসা Breaking

মিউচুয়াল ফান্ডে বড় রিটার্ন দেখে লগ্নির ভুল নয়! কাচের মতো স্বচ্ছ লাভ বুঝতে ভরসা রাখুন রোলিং রিটার্নে

পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট রিটার্নের ফাঁদে পা না দিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের আসল পারফরম্যান্স চিনুন রোলিং রিটার্নের সাহায্যে। ১১৮টি ফান্ডের ওপর করা সাম্প্রতিক সমীক্ষার রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জানুন।

মিউচুয়াল ফান্ডে বড় রিটার্ন
মিউচুয়াল ফান্ডে বড় রিটার্ন
Dwip Narayan
Authored By
May 31, 2026 8:03 PM
| 18px
Follow Us: Google News WhatsApp

ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (Fixed deposit) কিংবা পোস্ট অফিসের প্রথাগত সঞ্চয় প্রকল্পের ৫-৬ শতাংশের নিশ্চিত রিটার্ন (Return) আপনার পছন্দ নয়? আপনি কি ‘নো রিস্ক নো গেইন’ (No risk no gain) নীতিতে বিশ্বাস রেখে দাল্লাল স্ট্রিটের (Dalal Street) রোমাঞ্চ পছন্দ করেন? সাধারণত দেখা যায়, কোনো মিউচুয়াল ফান্ডে (Mutual Fund) ১, ৩ কিংবা ৫ বছরের ট্র্যাক রেকর্ডে ১২-১৫ শতাংশ রিটার্ন দেখলেই অনেক বিনিয়োগকারী চোখ বন্ধ করে টাকা ঢেলে দেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের অন্ধ বিনিয়োগে যেমন সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে, তেমনই লগ্নির দুনিয়ায় মূলধন তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়সীমার এই আকর্ষণীয় রিটার্ন অনেক সময় বাজারের একটি মরীচিকা বা ‘ইলিউশন’ (Illusion) হতে পারে। কোভিড মহামারি হোক বা জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি (Geopolitical situation)—বিশ্ববাজারের কঠিন সময়ে শেয়ার বাজারের প্রধান সূচকগুলো (Indices) যখন মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিওতেও ধস নামে। ফলে শুধু অতীতের রেকর্ড দেখে এন্ট্রি (Entry) নিলেই আপনার পোর্টফোলিওতে লোকসান (Loss) নিশ্চিত হতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে ফান্ডের ধারাবাহিকতা বা ‘কনসিস্টেন্সি’ খতিয়ে দেখা জরুরি।

আসল ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হলো রোলিং রিটার্ন

প্রাথমিকভাবে মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নির লাভ নির্ভর করে বিনিয়োগের সময়সীমা (Time horizon), ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা (Risk appetite), ফান্ড ম্যানেজারের কর্মদক্ষতা (Fund manager's investment operations) এবং পোর্টফোলিওর কেন্দ্রীকরণ বা পোর্টফোলিও কনসেনট্রেশন (Portfolio concentration)-এর ওপর। তবে এর বাইরেও একটি ‘এক্স ফ্যাক্টর’ (X-factor) রয়েছে, যা বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী এড়িয়ে যান; সেটি হলো ‘রোলিং রিটার্ন’ (Rolling returns)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোলিং রিটার্নের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি ফান্ডের আসল স্বাস্থ্য (Health)।

রোলিং রিটার্ন কী? সাধারণত লগ্নিকারীরা যখন কোনো ফান্ডের চার্ট (Chart) দেখেন, তখন তাঁরা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট (Point-to-point) রিটার্ন দেখেন। এতে অনেক সময় ফান্ডে ঢোকার বা বেরোনোর ঠিক আগের কয়েক মাসের বাজার পরিস্থিতির কারণে রিয়েল রিটার্ন (Real return)-এ বড়সড় তারতম্য চোখে পড়ে, যা বিভ্রান্তিকর। অন্যদিকে, রোলিং রিটার্ন হলো এমন একটি ইনস্ট্রুমেন্ট (Instrument) যেখানে একটি নির্দিষ্ট লগ্নির মেয়াদের মধ্যে একাধিক ওভারল্যাপিং (Overlapping) বা ধারাবাহিক সময় খতিয়ে দেখা হয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট দুই বিন্দুর রিটার্ন না দেখিয়ে, বাজার ভালো-মন্দ সব পরিস্থিতিতে ফান্ডটি কতখানি ধারাবাহিক (Consistent) ছিল, তা কাচের মতো পরিষ্কার করে দেয়।

সমীক্ষায় চমকপ্রদ তথ্য: পাস করল মাত্র ১৬% ফান্ড

সম্প্রতি একটি সংস্থার সমীক্ষায় ১১৮টি ডাইভার্সিফাইড ইক্যুইটি ফান্ড (Diversified equity funds)-এর পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সব ফান্ডের গ্রাফ আকর্ষণীয় মনে হলেও, রোলিং রিটার্নের কড়া পরীক্ষায় মাত্র ১৯টি ফান্ড ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিতে পেরেছে—যা মোট ফান্ডের মাত্র ১৬ শতাংশ!

এই সমীক্ষায় ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (Financial Year) সময়কালকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। কারণ, ২০১৯-২০-এর মন্দার পর ফের সদ্য সমাপ্ত ২০ Burn-২৬ অর্থবর্ষে নিফটি বার্ষিক নিরিখে নেগেটিভ (Negative) রিটার্ন দিয়েছে, যার ফলে বহু লগ্নিকারীর পোর্টফোলিও এখন রেড জোনে (Red zone) রয়েছে। এই কঠিন সময়েই ফ্লেক্সি ক্যাপ ফান্ডের জন্য নিফটি৫০০, মিড ক্যাপের জন্য নিফটি মিডক্যাপ১৫০, স্মল ক্যাপের জন্য নিফটি স্মলক্যাপ২৫০, লার্জ ক্যাপের জন্য নিফটি১০০ এবং লার্জ অ্যান্ড মিড ক্যাপের ক্ষেত্রে নিফটি লার্জ-মিডক্যাপ২৫০ সূচককে ট্র্যাক (Track) করা হয়। পাশাপাশি সঠিক টোটাল রিটার্ন ইনডেক্স (Total Return Index) পেতে ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশকেও গণনায় ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের শেষ কথা

অনেকেই বিনিয়োগের দিন যে ফান্ডটি ‘টপ-১০’ (Top-10)-এ রয়েছে, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এমন হতেই পারে যে, ৫ বছরের রেকর্ডে শীর্ষে থাকা ফান্ডটির অতীতে দীর্ঘদিন ধরে আন্ডারপারফর্ম (Underperform) করার ইতিহাস রয়েছে। রোলিং রিটার্ন পদ্ধতি ব্যবহার করলে এই ফাঁদ এড়ানো সম্ভব। তবে সাধারণ লগ্নিকারীদের পক্ষে যদি এত টেকনিক্যাল বিষয় খতিয়ে দেখা সম্ভব না হয়, তবে লগ্নির আগে একজন রেজিস্টার্ড আর্থিক উপদেষ্টা বা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজরের (Financial advisor) পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Share this article: Google Preferred Source

Comments (0)

Embed this article
Test