Breaking
বেঙ্গল এক্সপ্রেস
Welcome! Join the community.
Home / পশ্চিমবঙ্গ / সরকারি অর্থ অপচয় নয়! নিজেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙুন: পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
পশ্চিমবঙ্গ Breaking

সরকারি অর্থ অপচয় নয়! নিজেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙুন: পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে সরকারি অর্থ অপচয় না-করে নির্মাণকারীদের তা নিজেই ভেঙে ফেলার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেআইনি নির্মাণ, মেসির মূর্তি স্থানান্তর এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

অগ্নিমিত্রা পাল
অগ্নিমিত্রা পাল
Dwip Narayan
Authored By
May 28, 2026 7:25 AM
| 18px
Follow Us: Google News WhatsApp

আসানসোল: রাজ্যে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে আর সরকারি অর্থ অপচয় নয়! বরং নির্মাণকারীরা নিজেরাই সেই বেআইনি কাঠামো ভেঙে ফেলুন – এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বুধবার আসানসোলে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি একযোগে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ থেকে শুরু করে লিওনেল মেসির বিতর্কিত মূর্তি এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ইস্যু, একাধিক বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সংস্থার নামে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিস জারি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন,

"অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তিনি ১০ দিনের সময় চেয়েছেন। তাঁর উত্তর পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করব।"

এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও বলেন,

"অভিষেক ভেবেছিলেন তাঁরা আইনের ঊর্ধ্বে। তিনি এখন ক্ষমতায় নেই। মানুষ তাঁদের অস্বীকার করেছে। তাঁর উচিত অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে সরকারি অর্থের অপচয় না–করে নিজেই সে সব অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়া।"

মন্ত্রীর এই মন্তব্য স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয় করে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রথা বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারীকেই দায়ভার নিতে হবে, এই বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট।

শুধু বেআইনি নির্মাণ নয়, বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসির কলকাতার বিতর্কিত মূর্তি নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন পুরমন্ত্রী। লেকটাউনে স্থাপিত ওই মূর্তিটি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান,

"লেকটাউনে লিওনেল মেসির মূর্তিটি সেখান থেকে সরিয়ে একটি পার্কে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও ওই মূর্তি মেসিরই কি না, সেটা বোঝাই দায়। তবুও শিল্পীকে সম্মান দিতে মূর্তিটি স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।"

তিনি আরও যোগ করেন,

"এখন যে জায়গায় মূর্তিটি রয়েছে সেটি পিডব্লিউডি-র জমি। তাই মূর্তিটি সরিয়ে ফেলা হবে।"

এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন বিতর্কের অবসান ঘটাবে, তেমনই সরকারি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

এদিনের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্যটি আসে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে। দেশের নিরাপত্তা এবং রাজ্যের সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি পূর্বতন বাম এবং বর্তমান তৃণমূল সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন,

"পূর্বতন সরকারগুলির আমলে এই বাংলাদেশিরা অবৈধ পথে এ দেশে ঢুকেছে এবং মমতার সরকার এদের ভোটের রাজনীতির কাজে ব্যবহার করেছে।"

তাঁর মতে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত। মন্ত্রী আরও দাবি করেন,

"ওদের জন্য এই রাজ্যে কল্যাণমূলক তহবিলের টাকা খরচ করা বা এ রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ করা উচিত নয়। খুব সোজা ভাবে এদের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি শিবিরে রেখে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে ও দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য।"

 

এই প্রসঙ্গে তিনি সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের 'অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি মানবিক হওয়া উচিত' এবং তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দলাই লামাকেও একজন 'অনুপ্রবেশকারী' বলে করা মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। বর্ষীয়ান আইনজীবী ও রাজনীতিবিদকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে তিনি বলেন,

"ওঁর মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে দলাই লামার তুলনা টেনে কেন এ কথা বলছেন, সেটাই খুব আশ্চর্যের।"

মন্ত্রীর এই মন্তব্যগুলি একদিকে যেমন সরকারের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে, তেমনই বিরোধী শিবিরকে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়ে দিল। জাতীয় নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিই এদিন স্পষ্ট করে দিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

 

Share this article: Google Preferred Source

Comments (0)

Embed this article
Test